kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কুমিল্লায় অস্ত্রসহ সাত শীর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা    

১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:২৮



কুমিল্লায় অস্ত্রসহ সাত শীর্ষ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় অস্ত্রসহ সাত ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ গুলি, দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি পিস্তল, ছিনতাইকৃত পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

আজ শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে নগরীর চকবাজারস্থ ব্র্যাক ব্যাংক থেকে দুইজন গ্রাহক সাত লাখ টাকা উত্তোলন করে মনোহরপুর যাচ্ছিলেন। পথে হিল্টন টাওয়ারের সামনে ৭-৮ জন ছিনতাইকারীর একটি দল মোটরসাইকেলযোগে রিকশার গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ‌ওই ঘটনায় ওইদিনই তারা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, মামলার পর ছিনতাইকারীদের ধরতে কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো.  সহিদুল ইসলাম ও এসআই মো. শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম-এর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনাকালে নগরীর ময়নামতি এলাকা থেকে শীর্ষ ছিনতাইকারী মো. রুবেল মিয়া ওরফে দাগি রুবেলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি এলজি ও দুই রাউন্ড কার্তুজ গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে রুবেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী  ছিনতাইকৃত তিন লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেলসহ শিবলুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একইভাবে শিবলুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ইবনে আশফাত ইকবাল ওরফে ফারহানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফারহানের গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার ছাতিপট্টির ১৬৪ পানপট্টি রোড গাংচরের রামধনপুর এলাকা থেকে ছিনতাইয়ের এক লাখ টাকা এবং নানু দিঘীর পাড়ের বাসা থেকে ৭০ হাজার টাকা, ছিনতাইয়ের সময় ব্যবহৃত একটি পিস্তল ‌এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের তিনজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো চারজনকে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন কোতোয়ালি থানার উত্তর চর্থা খালের পাড় এলাকার তারা মিয়া বাড়ির মৃত বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. রুবেল মিয়া ওরফে দাগি রুবেল (২৫), কোতোয়ালি থানার  দ্বিতীয় মুরাদপুর এলাকার জাফর আহম্মেদের ছেলে শিবলী ওরফে শিবলু (২১), কোতোয়ালি থানার নানু দিঘীর পাড়ের আব্দুল মতিনের ছেলে ইবনে আশফাত ইকবাল ওরফে ফারহান (২৯), সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যম আশ্রাফপুর (মর্ডান আবাসিক) এলাকার আব্দুল অদুদের ছেলে মো. মিরাজুল সাকিব ওরফে সানি, কোতোয়ালি থানার  গোবিন্দপুর এলাকার খালেদ বিন ওয়ালিদের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রনি (২১), সদর দক্ষিণ উপজেলার শাকতলা গ্রামের মো. রবিউলের ছেলে জিয়াউল হক ফাহিম (২০) এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার মধ্যম আশ্রাফপুরের (আল মদিনা হাউজিং) শহিদুল্লাহ মজুমদারের ছেলে আরিফুল জাহান পূর্ণ(১৯)।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, ছিনতাইয়ের ঘটনায় তারা আটজন অংশ নেন। তার মধ্যে ফারহান ও সানি ব্যাংকে অবস্থান নিয়ে গ্রাহকদের তথ্য নিয়ে শিবলী, আরিফুল জাহান পূর্ণ ও জিয়াউল হক ফাহিমকে জানালে তারা মোটরসাইকেলযোগে গ্রাহককে ব্যাংক থেকে অনুসরণ করেন। পরে রুবেল মিয়া ও সাইফুল ইসলাম মোটরসাইকেলযোগে গ্রাহকের  গতিরোধ করে ছিনতাই করেন।

পুলিশ সুপার জানান, টাকা লুটের ঘটনায় নগরীর চিহ্নিত আট সন্ত্রাসী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মো. আলী আশরাফ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. আবদুল মোমেন, জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) তানভীর সালেহীন ইমন, ডিআইও ১ মো. মাহবুবুর রহমান এবং জেলা ডিবির ওসি এ কে এম মনজুর আলম।

 


মন্তব্য