kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কিশোরগঞ্জে বাল্যবিবাহ পড়ানোর দায়ে ইমামের কারাদণ্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ১০:৫৯



কিশোরগঞ্জে বাল্যবিবাহ পড়ানোর দায়ে ইমামের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলায় বাল্যবিবাহ পড়ানোর দায়ে সাইফুল ইসলাম (৩১) নামের এক ইমামকে সাত দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শুক্রবার রাতে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলরুবা আহমেদের নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

সাজাপ্রাপ্ত সাইফুল ইসলাম উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল হক জামে মসজিদের ইমাম। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বুল্লা গ্রামের আবদুল হেকিম মিয়ার ছেলে।
 
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, শিবপুর গ্রামে একটি বাল্যবিবাহ হচ্ছে বলে গতকাল রাত ১১টার দিকে খবর পান ইউএনও দিলরুবা আহমেদ। কনে স্থানীয় জামালপুর টেকনিক্যাল স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। এর ভিত্তিতে রাতেই পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ইউএনও। ততক্ষণে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় এবং নববধূকে নিয়ে বরপক্ষ চলে যায়। এরপর ইউএনও দিলরুবা শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাকী ভূঁইয়াসহ ইমাম সাইফুল ইসলামকে ডেকে আনেন। জানতে পারেন, বাল্যবিবাহ নিবন্ধনে ওই ওয়ার্ডের কাজি অসম্মতি জানান। কিন্তু ইমাম সাইফুল নিজ উদ্যোগে বিয়ে পড়ান। পরে রাত ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম ও ওয়ার্ড সদস্য বাকী ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে ইমাম সাইফুল ইসলামকে সাত দিনের কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইমাম সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ওই এলাকার মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শাহাদাৎ সরকারের নির্দেশে বিয়ে পড়িয়েছেন। তাঁর নির্দেশ অমান্য করার সক্ষমতা তাঁর ছিল না।

এ ব্যাপারে ইউএনও দিলরুবা আহমেদ বলেন, বাল্যবিবাহ আইন লঙ্ঘন দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।


মন্তব্য