kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গৌরনদীতে ১০ টাকা কেজির চাল খোলা বাজারে বিক্রি!

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩০



গৌরনদীতে ১০ টাকা কেজির চাল খোলা বাজারে বিক্রি!

সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় নিয়োগ প্রাপ্ত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কয়েক জন ডিলারে বিরুদ্ধে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খোলা বাজারে কাছে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি ভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত ডিলার উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের বাকাই বাজারে প্রদীপ কুমার দত্ত, ভূরঘাটা বাজারে ফরিদ হোসেন বেপারী ১৯০৫টি কার্ডে, বার্থী ইউনিয়নের বামসিদ্দি বাজারে গনেশ চন্দ্র বাড়ৈ, বার্থী বাজারে আব্দুল আজিজ বেপারী ১৮৩৮টি কার্ডে, চাঁদশী ইউনিয়নে আতিকুর রহমান রতন,  মাহাবুব রহমান রোমানকে ডিলার নিয়োগ করে ৭৫৭ টি কার্ডে, মাহিলাড়া ইউনিয়নের বিল্বগ্রাম বাজারে শহিদুল ইসলাম সরদার, মাহিলাড়া বাজারে জালাল সরদার ১০৮৭টি কার্ডে, কাটাজোর ইউনিয়নে চন্দ্রহার বাজারে বুলবুল ইসলাম, বাটাজোর বাজারে কামাল শিকদার ১৬৫৫টি কার্ডে, নলচিড়া ইউনিয়নে পিঙ্গলাকাঠি বাজারে মাসুদ মল্লিক খোকন, নলচিড়া বাজারে জাকির হোসেন হাওলাদার ১৫৫০টি কার্ডে, শরিকল ইউনিয়নের শরিকল বাজারে হিরোন হোসেন হিরা, সুরেন শিকদার হাটে রত্তন বেপারী ১৬৬০টি কার্ডে ৩০ কেজি করে চাল ১০টাকা কেজি দরে বিক্রি করবে। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে নিযোগ প্রাপ্ত ১৪ জন ডিলার সবাই সরকারি দলের নেতাকর্মী। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের হতদরিদ্র্র ১০ হাজার ৪৪৯ পরিবারের মাঝে এ কর্মসূচি মার্চ, এপ্রিল ও সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত চলবে। উপজেলার শরিকল ইউনিয়নে  বুধবার সকালে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির কর্মসূচি উদ্বোধন করার সময় ইউএনও এলাকা থেকে অভিযোগ পান ওই ইউনিয়নের নিয়োগ প্রাপ্ত ২ জন ডিলার খাদ্য গুদাম থেকে হতদরিদ্রদের একাংশ চাল ২৭ সেপ্টেম্ব বাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। তাৎক্ষনিক বিষয়টি আমলে নিয়ে ইউএনও ডিলারের চাল বিতরণ (বিক্রি) বন্ধ রাখার নির্দেশে দিয়ে এ বিষয়ৈ খোঁজখবর নিতে শুরু করেন।

অনুসন্ধানে ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শরিকল ইউনিয়নের বরাদ্দকৃত ১ হাজার ৬৬০টি কার্ডের চাল ডিলার ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিরোন হোসেন  হিরা ও ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি রত্তন বেপারী গত ২৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলণ করেন। এ সময় কাগজে কলমে বরাদ্দকৃত সমস্ত চাল খাদ্য গুদাম থেকে উত্তোলণ দেখিয়ে প্রায় ২১.৯ মেঃটন চাল গুদামে রেখে বার্থী বাজারের ডিলার আজিজ বেপারীর কাছে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওইদিনই আজিজ বেপারী তার থরিদকৃত চাল বন্ধ তাসলিমা রাইস মিলের মালিক খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক  আরজ আলী সরদারে কাছে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ উঠে। আরজ আলীর খরিদকৃত উক্ত চাল ওইদিনই (২৭ সেপ্টেম্বর) সংগৃহীত চাল হিসেবে খাদ্য গুদামে খামাল দেয়া হয়। ইউএনও’র চাপের মূখে ঘারতি পূরণের জন্য ডিলার হিরোন হোসেন ও রত্তন বেপারী বুধবার রাতে শরিকল বাজারের চাল ব্যবসায়ী শাহাদাত শিকদার ও নাসির মোল্লাসহ কয়েক জনের কাছ থেকে ২১ মেঃ টন চাল খরিদ করে তাদের (ওই ২ ডিলারের) গোডাউনে ঢুকানো হয়।

শরিকল বাজারের চাল ব্যবসায়ী শাহাদাত শিকদার বলেন, ৩৭ টাকা কেজি দরে ৯ মেঃ টন চাল আমার কাছ থেকে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লার মাধ্যমে ডিলার রত্তন বেপারী খরিদ করেন। আমি বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে মামুনের খরিদকৃত ৯ মেঃ টন চাল ডেলিভারী দেই।

সরেজমিনে শরিকল বাজারে বসে কথা হয় স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগের সভাপতি আজিজুল মোল্লা, হিরার গোডাউনের পাশের দোকানদার ইউনুস মোল্লা, হতদরিদ্র সাকোকাঠি গ্রামের খলিল হাওলাদার, বেদগর্ভ গ্রামের মোঃ মজিদ বলেন, ডিলার হিরা গৌরনদী বসে হতদরিদ্রদের ১০ মেঃটন চাল বিক্রি করে আসার কারণে বধুবার কার্ডের চাল বিতরণ বন্ধ রাখে ইউএনও। বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও আসার পূবে একটি ট্রাক যোগে শতাধিক চালের বস্তা শরিকল বাজারে এনে মজিবর ডাক্তারের দোকানে ঢোকানো হয়েছে।

অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে ডিলার হিরোন হোসেন হিরা বলেন, আমার গোডাউনে জায়গা না থাকার কারণে আমি অন্য গোডাউনে চালের বস্তা রেখেছিলাম। ওই গোডাউনের নাম জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে মোবাইল ফোন কেটে দেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহাবুব আলম বলেন, স্থানীয় ভাবে আমি একাধিক মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে ওই ২ ডিলারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


মন্তব্য