kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চারজনের যাবজ্জীবন

মঠবাড়িয়ায় রুবেল হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোজপুর    

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:২৬



মঠবাড়িয়ায় রুবেল হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র রুবেল হত্যা মামলার রায়ে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও জজ আদালতের বিচারিক হাকিম জিল্লুর রহমান এ রায় দেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন মঠবাড়িয়ার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের ডালিম জমাদ্দারের ছেলে মিরাজ জমাদ্দার, হারুন হাওলাদারের ছেলে আবদুল জলিল এবং মান্নান পহলানের ছেলে আবুল কালাম। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন জাহিদুল ইসলাম, রিয়াজ, মান্নান এবং ফারুক। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে মামলার প্রধান আসামি মিরাজ জমাদ্দার বর্তমানে পলতক। বাকি আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়। এ সময় নিহত রুবেলের পরিবারের স্বজনরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উত্তর মিঠাখালী গ্রামের মো. হাবিবুর রহমান আকনের ছেলে কলেজ ছাত্র রুবেল আকনকে (১৮) ২০০৮ সালের ২২ জুন অভিযুক্ত মিরাজ জমাদ্দার ও রিপন খান পাওনা টাকা পরিশোধের কথা বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর রুবেল আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। অভিযুক্ত আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ খালে ভাসিয়ে দেয়। পরের দিন সকালে উপপজেলার বড়মাছুয়া এলাকার শাখারিকাঠি ভাড়ানী খালে নিখোঁজ কলেজ ছাত্র উবেলে লাশ গ্রামবাসী ভাসতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে  রুবেলের লাশ উদ্ধার করে।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকাবাসী এবং রুবেলের সহপাঠীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মানবন্ধন,  ইউএনও অফিস ঘেরাওসহ নানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে। এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বাবা মো. হাবিবুর রহমান আকনের বাদী হয়ে ওই দিন একই গ্রামের ডালিম জমাদ্দারের ছেলে মিরাজ জমাদ্দার ও ফারুক খানের ছেলে রিপন খানসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে মঠবাড়িয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ রিপন খানসহ চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠায়। তবে এ হত্যায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মিরাজ জমাদ্দার ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মঠবাড়িয়া থানার ততকালীন এসআই মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সাতজনকে অভিযুক্ত করে ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। নিহত কলেজ ছাত্র রুবেলের বড় ভাই মিজানুর রহমান পিন্টু আদালতের রায়ে  সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বাদী পক্ষের মামলা পরিচালনা কলেন সরকারি কৌঁসুলি অ্যাড. আলাউদ্দীন খান।

 


মন্তব্য