kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বরগুনায় দুর্নীতির মামলা

পুকুরচুরির নায়ক পিআইও রণজিৎ সরকার কারাগারে

সোহেল হাফিজ, বরগুনা    

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:২৮



পুকুরচুরির নায়ক পিআইও রণজিৎ সরকার কারাগারে

দুর্নীতির মামলায় বরগুনা সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রণজিৎ  কুমার সরকারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। দুর্নীতির অভিযোগে এক ভুক্তভোগীর দায়ের করা মামালায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তা নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

বরগুনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. হাসানুজ্জামান এ আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন বরগুনার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে বাস্তবায়িত একাধিক প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতির প্রতিকার চেয়ে বরগুনার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের খাজুরতলা গ্রামের বাসিন্দা সামসুল হক সানু।

অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ আরো জানান, অভিযোগ দায়েরের পর মামলাটি তদন্তের জন্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠায় আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় গত ২০ সেপ্টেম্বর পিআইও রণজিৎ-সহ অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন আদালত। মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া অপর তিনজন এখনো পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে। এরা হলেন সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি সদস্য মো. নাজমুল আহসান নিজাম, মো. মহিবুল্লাহ রিপন এবং তাছলিমা এলেনুর।

মামলার বাদী সামসুল হক সানু তাঁর অভিযোগে বলেন, পিআইও রনজিৎ সরকার অপর আসামিদের যোগসাজশে ২০১২-১৩ অর্থবছরে শুধুমাত্র আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের অনুকূলে কোনো কাজ না করেই বরাদ্দ ১৮ লাখ টাকার ১৭ লাখই আত্মসাত  করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১০ বছরেরও অধিক সময় ধরে বরগুনা সদর উপজেলায় পিআইও পদে চাকরি করে যাচ্ছেন রণজিৎ কুমার সরকার। এই দীর্ঘ সময়ে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, অসাধু ইউপি চেয়ারম্যান, সদস্য এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে পুকুর চুরি করে তিনি কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী স্থানীয় অধিবাসীদের।

রণজিৎ সরকারের পুকুর চুরির ইতিবৃত্ত নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কালের কণ্ঠে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় অন্যান্য গণমাধ্যমেও। চাকরিতে যোগদানের পর ২০০২ সালে বরগুনা সদর উপজেলায় পিআইও পদে যোগ দেন রণজিৎ। এরপর স্বল্প সময়ের জন্য কয়েকবার বরগুনা ও এর আশপাশের উপজেলায় বদলি হলেও ঘুরে ফিরে যথারীতি তিনি চলে আসেন বরগুনা সদর উপজেলায়।

 


মন্তব্য