kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


থানার ভেতর উত্তেজিত মেয়রের ফাঁকা গুলি!

বরগুনা প্রতিনিধি    

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:২৭



থানার ভেতর উত্তেজিত মেয়রের ফাঁকা গুলি!

শালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বরগুনার আমতলী থানায় পৌর মেয়র ও প্যানেল মেয়রের দু’পক্ষের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ওসির সামনেই নিজের পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন আমতলী পৌরসভার মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।

সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের শত শত সমর্থক। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আমতলী থানা ও এর আশপাশের এলাকায়। পরে পুলিশের লাঠি চার্জে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আমতলীতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামসুল হক গাজী জানান, আমতলীর চাওরা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ আক্তারুজ্জামান বাদল খানের স্ত্রী ববিতা খানমকে নিয়ে বাদল খানের মামাতো ভাই মাহবুবুর রহমান সোমবার রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাজারে গেলে পূর্ব কলহের জের ধরে মাহবুবকে আটক করে মারধরের চেষ্টা চালায় আমতলী পৌরসভার মেয়র মতিয়ার রহমান সমর্থিত ছাত্রলীগ নেতা সবুজ ম্যালকার এবং মাহমুদুর রহমান প্রিন্স। এ সময় বাঁধা দিলে বাদল খানের স্ত্রী ববিতা খানমের ওপরেও চড়াও হয় সবুজ, প্রিন্স ও তাদের সহযোগীরা। এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা সবুজ এবং প্রিন্সকে গেপ্তার করে পুলিশ। এ বিষয়ে শালিস বৈঠক ও মিমাংসার জন্যে মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে দু’পক্ষের লোকজন আমতলী থানায় উপস্থিত হলে আমতলী পৌরসভার মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমানের সাথে প্যানেল মেয়র জিএম মুসার বাকবিতণ্ডা হয়। এর এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায়ের উপস্থিতিতেই নিজের পিস্তল বের করে ফাঁকা গুলি ছোড়েন মেয়র মতিয়ার রহমান।

এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জিএম দেলোয়ার হোসেন বলেন, দু’পক্ষের উত্তেজনার খবর শুনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি আমতলী থানায় উপস্থিত হন। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় আকষ্মিকভাবে তিনি দু’রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে পুলিশের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন বলে জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে প্যানেল মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম মুসা বলেন, থানায় আটক বখাটে সবুজ এবং প্রিন্সকে ছাড়িয়ে নিতে মেয়র মতিয়ার রহমান শুরু থেকেই পক্ষপাতদুষ্ট কথা বলেন। এতে থানায় উপস্থিত জেষ্ঠ্য নেতৃবৃন্দের সাথেও কথা কাটাকাটি হয় মেয়র মতিয়ার রহমানের। এক পর্যায়ে আমতলী থানার বারান্দায় দাড়িয়ে নিজের পিস্তল বের করে গুলি ছুড়তে গেলে তাকে বাঁধা দেন ওসি পুলক চন্দ্র রায়। এ সময় ওসি পুলক চন্দ্র রায়ের বাঁধা উপেক্ষা করে বিকট শব্দে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছোড়েন মেয়র মতিয়ার রহমান।  

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা যাই হোক না কেন পুলিশ স্টেশনে বসে গুলি ছোড়ার মত কোন ঘটনা সেখানে ঘটেনি। এটা মেয়র মতিয়ার রহমানের ক্ষমতা আর অর্থের দাপট ছাড়া আর কিছুই নয়। ’

তবে গুলির বিষয় অস্বীকার করে আমতলী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, একটি বিষয় নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে তা মিটমাট হয়ে গেছে।

এ ব্যাপারে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলক চন্দ্র রায় জানান, বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সবাইকে থানার বাইরে বের করে দেওয়া হয়। থানার বাইরে বেরিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে 
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় দু’রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে আমতলী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত সবুজ ও প্রিন্সকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।  


মন্তব্য