kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শরীয়তপুরে অক্সিজেনের অভাবে দুই নবজাতকের মৃত্যু

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৫৪



শরীয়তপুরে অক্সিজেনের অভাবে দুই নবজাতকের মৃত্যু

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে দুই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে।

শিশু দুটি মারা যাওয়ার পর পরিবারের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে দায়িত্বে থাকা স্মৃতি নামের এক সেবিকার সাথে খারাপ আচরণ করেন। চাহিদার তুলনায় একেবারেই কম অক্সিজেন সরবরাহ থাকায় এমনটা ঘটেছে বলে জানিয়েছে চিকৎসকরা। এদিকে ওই দুই শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে অনেক শিশুকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে ।  
 
ওই নবজাতকের পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ২টার দিকে জেলা শহরের হাওলাদার ক্লিনিকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানার মিয়ারচর দিয়ারা চৌকিদার কান্দি গ্রামের শাহাবুদ্দিন চৌকিদার ও ফারজানা দম্পত্তি দুইটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। এর মধ্যে একজনের শ্বাসকষ্ট হলে মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে একটি নবজাতককে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু রাত ১০টার দিকে অক্সিজেনের অভাবে প্রথমে একটি শিশু মারা যায়। এর ১৫ মিনিট পরে একই হাসপাতালে আরো একটি শিশুর মৃত্যু হয়। এদিকে ওই দুই শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা অসমাপ্ত রেখে অনেক শিশুকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ চিকিৎসা না পেয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে যাওয়া শিশুদের স্বজনদের।
 
নিহত নবজাতকের মামী লাভলী বেগম (৩০) বলেন, ডাক্তার অক্সিজেন খেলতে নিষেধ করেছিল। রাত জাগার কারণে শিশুটির পাশে ঘুমিয়ে পরি। এ সময় নার্স (সেবিকা) এসে আমাদের না জানিয়ে অক্সিজেন খুলে নিয়ে যায়। ঘুম থেকে উঠে শিশুটির অবস্থা খারাপ দেখে তাদেরকে আমি অনেক অনুরোধ করেছি অক্সিজেন দেওয়ার জন্য। নার্সরা বলে ডাক্তারের কাছে জানাতে। আমি ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলে নার্সের কাছে যেতে। তারা আমার কোন কথাই শুনেনি। পরে রাত ১০টার দিকে আমাদের নবজাতক শিশু মারা যায়।

পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকের বাবা শহীদ মৃধা বলেন, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করার পর নার্সরা জানান তাদের কাছে অক্সিজেন নেই। পরে আমি এক ছেলেকে ২০০ টাকা দেওয়ার পর তারা আমাকে অক্সিজেন এনে দেয়। এর পর আমার ছেলে ভাল ছিল। ডাক্তার আমাদেরকে  অক্সিজেন খুলতে নিষেধ করেছিল। কিন্তু নার্সরা আমাদের না জানিয়ে অক্সিজেন খুলে নিয়ে যাওয়ার পর আমার ছেলে মারা যায়।

এ বিষয়ে কথা বলতে দ্বায়িত্বে থাকা সেবিকা সৃতির মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করে রেখে দেন। কোন কথা বলেননি।

এ প্রসঙ্গে কর্তব্যরত চিকিৎসক নবজাতক শিশু ও কিশোর বিশেষজ্ঞ ডা. মিজানুর রহমান বলেন, তিনটি ওয়ার্ডে মাত্র একটি অক্সিজেন ছিল। এ কারণে একসাথে দুটি শিশুকে অক্সিজেন দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে অক্সিজেনের কারণেই যে শিশু দুটির মৃত্যু হয়েছে এমনটা নাও হতে পারে। শিশুর অবস্থা খারাপ ছিল। শিশু দুটিকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা ঢাকায় নেয়নি।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও সিভিল সার্জন মশিউর রহমান বলেন, সদর হাসপাতালে 
অক্সিজেন ফ্লোমিটারসহ চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। অক্সিজেনের অভাবে শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি দু:খজনক। ১০টি ফ্লোমিটার সরবরাহ করার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। কারো দ্বায়িত্ব পালনে অবহেলা থাকলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য