kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বেনাপোলে বিএসটিআই অফিস না থাকায় হয়রানির শিকার আমদানিকারকরা

বেনাপোল প্রতিনিধি    

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:২৬



বেনাপোলে বিএসটিআই অফিস না থাকায় হয়রানির শিকার আমদানিকারকরা

দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনসটিটিউটের (বিএসটিআই) অফিস না থাকায় নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারকরা। যে সব পণ্য বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ভারতে রপ্তানি করা হয়ে থাকে তার মধ্যে পরীক্ষা করা পণ্যের রিপোর্ট ভারতের সংশ্লিষ্ট ল্যাব থেকে ৪-৫ দিনের মধ্যে পেট্রাপোল কাস্টম হাউজে ই-মেইলে চলে আসে।

কিন্তু আমদানি করা পণ্যের বিএসটিআই পরীক্ষা রিপোর্ট পেতে প্রায় তিন সপ্তাহ লেগে যায়। এ রিপোর্ট জমা হয় হাতে হাতে অর্থাৎ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে।

সম্প্রতি আমদানিকারক মেসার্স ল’রিয়েল বাংলাদেশ লি. ইন্ডিয়া থেকে গার্নিয়ার ব্র্যান্ডের সাত হাজার ৯৭৪ কার্টন পণ্য আমদানি করেন। পণ্য চালানটি খালাসের জন্য বেনাপোল কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয় ২১ সেপ্টেম্বর। যার নম্বর সি- ৫৬৯৪১। পণ্য চালানটির কিছু আইটেম বিএসটিআইয়ের পরীক্ষা অত্যাবশ্যকীয়। কিন্তু বেনাপোলে বিএসটিআই এর অফিস না থাকায় পণ্য চালানটি এখনো আটকে আছে এই বন্দরে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ ধরনের পণ্য পরীক্ষার জন্য বিএসটিআইয়ের খুলনা অফিসের শরণাপন্ন হতে হয়। বেনাপোল থেকে নমুনা সংগ্রহ করে খুলনায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর তা ঢাকায় পাঠানো হয়। আবার একই কায়দায় ঢাকা থেকে পরীক্ষা করে রিপোর্ট খুলনায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে বেনাপোলে নিয়ে আসা হয়।

আরো মুশকিল হলো- খুলনা থেকে বিএসটিআই কর্মকর্তারা নিয়মিত বেনাপোল আসেন না। বিএসটিআই অফিসারকে পত্রের মাধ্যমে জানানো হলে এবং গাড়ি পাঠালে তারা বেনাপোল বন্দরে এসে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

সূত্র আরো জানায়, ২০১১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেয় যে দ্রুত বেনাপোল স্থলবন্দরে বিএসটিআইয়ের স্থায়ী অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত আজো বাস্তবায়ন হয়নি অদৃশ্য কারণে।

এ ব্যাপারে ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের স্থলবন্দর সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান জানান, বেনাপোল বন্দরে বিএসটিআইয়ের স্থায়ী অফিস না থাকায় কোনো পণ্যের পরীক্ষার প্রয়োজন হলে কার্যালয়টিকে চিঠির মাধ্যমে আমন্ত্রণ জানানো হয়। গাড়ি পাঠালে বিএসটিআই কর্মকর্তারা বেনাপোল বন্দরে এসে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে রিপোর্ট প্রস্তুত করেন। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। রিপোর্ট নিতে অনেক সময় লেগে যাওয়ায় আমদানি করা পণ্যের ওয়্যার হাউজ ড্যামারেজ গুণতে হয়। পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ সুদ বহন করতে হিমশিম খেতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, খুলনা থেকে সপ্তাহের রবি, মঙ্গল এবং বৃহস্পতিবার বিএসটিআই কর্মকর্তারা যদি বেনাপোল বন্দরে এসে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করতেন তাহলে আমদানি করা মালামাল দ্রুত খালাস নিতে এবং পণ্যের অতিরিক্ত খরচ থেকে রেহাই পেতেন আমদানিকারকরা। এসব খরচ কার্যত পরোক্ষভাবে ক্রেতা সাধারণকেই বহন করতে হয়।

অনতিবিলম্বে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলে বিএসটিআইয়ের স্থায়ী অফিস স্থাপন করা প্রয়োজন বলে মনে করেন আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্টরা।


মন্তব্য