kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


একজন মৎস্য কর্মকর্তার কাণ্ড!

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩১



একজন মৎস্য কর্মকর্তার কাণ্ড!

মাছ শিকার করে মোকামে বিক্রির উদ্দেশে যাওয়ার পথে ৪০ হাজার টাকা ও ১০০ ইলিশ উৎকোচ দিতে বাধ্য হলেন জেলেরা। বলেশ্বর নদের চরের কাছে ট্রলার ভিড়িয়ে একজন মৎস্য কর্মকর্তা ওই উৎকোচ আদায় করেন।

গভীর সমুদ্র থেকে  জেলেরা মাছ ধরে বাগেরহাট মোকামে মাছ বিক্রির উদ্দেশে যাচ্ছিল। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দার নিজামচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
জেলেদের বরাত দিয়ে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, বরগুনার আ. শুক্কুরের মালিকানাধীন এফবি শাহজালাল ট্রলারটি মাঝিসহ ১৫ জেলে গভীর সমুদ্র থেকে মাছ শিকার করে বাগেরহাট মোকামে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ইলিশ নিয়ে যাচ্ছিল। শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দার নিজাম চর এলাকায় শরণখোলা উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম ওই ট্রলারে বেশি মানুষ থাকার অজুহাতে ট্রলারটি জব্দ করে। পরে ট্রলারে থাকা জেলেদের কাছে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ওই মৎস্য কর্মকর্তা।
 
তিনি আরো জানান, এক পর্যায়ে মাঝি মো. নান্না মিয়া ট্রলার মালিক আ. শুক্কুরকে বিষয়টি জানালে শুক্কুর ০১৮৬৪৪৫৩১৬১ নম্বরে ২০ হাজার ও ০১৮৬৪৪৩১৬১২ নম্বরে ২০ হাজার ৮০০ টাকা বিকাশ করে এবং ওই ট্রলার থেকে ১০০ পিস ইলিশের বিনিময় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
এ বিষয়ে এফবি শাহজালাল ট্রলারের মালিক আ. শুক্কুর বলেন, বিকাশের মাধ্যমে ২টি নম্বরে পৃথক ৪০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং ১০০ পিস বড় সাইজের ইলিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা বিষয়টি মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতিকে জানানোর পর তারা বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন।
 
এ প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য শরণখোলা উপজেলা সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলামের ০১৭১২১৪৯০১০ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
 
এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আ. অদুদ বলেন, এমন অভিযোগ ট্রলার মালিক আমাকে মোবাইল ফোনে ফোনে জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি দেখছি। তবে কেউ অপরাধ করলে সে তার শাস্তি ভোগ করবে।

এ বিষয়ে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয বসাক কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি তিনি জেলে ট্রলার মালিকদের নিকট শুনেছেন। বাগেরহাট পুলিশ সুপারের সাথে আলাপ করবেন বলে তিনি আশ্বস্থ করেন।


মন্তব্য