kalerkantho


গোয়ালন্দে পদ্মায় ভেসে উঠল যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:২০



গোয়ালন্দে পদ্মায় ভেসে উঠল যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নিখোঁজের তিন দিন পর তৌহিদুজ্জামান বেপারী ওরফে বদের(৪২) নামে এক যুবককের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় নইমদ্দিন খাঁরপাড়া গ্রামের পাশে পদ্মা নদীতে ভেসে থাকা অবস্থায় তার লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত তৌহিদুজ্জামান বেপারী ওরফে বদের রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার চরদৌলতদিয়া গেন্দু বেপারীপাড়া গ্রামের মৃত রোকন বেপারীর ছেলে। পেশায় তিনি জমি মাপার একজন আমিন ছিলেন। মা, স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে সন্তান নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। প্রতিদিনের মতো গত শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পেশাগত প্রয়োজনে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। পরে ভাড়ায় চালিত এক মোটরসাইকেলে করে প্রথমে তিনি গোয়ালন্দ পৌর শহরে যান। সেখান থেকে রাত পৌনে ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে তিনি মাহেন্দ্রযোগে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার মনোরমা সিনেমা হলের সামনে আসেন। এ সময় সেখানে অজ্ঞাত একদল দুর্বৃত্ত এসে তৌহিদুজ্জামান ওরফে বদেরকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে ওই রাতে বাড়ি ফিরে না আসায় বদেরের পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েন। বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজ চালিয়েও বদেরের কোন সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় নিখোঁজ স্বামীর সন্ধান পেতে বদেরের স্ত্রী আফরোজা বেগম গতকাল সোমবার গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নম্বর-৮৪৬)। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করেন তিনি। নিখোঁজের তিন দিন পর আজ মঙ্গলবার গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ইউনিয়নের নইমদ্দিন খাঁরপাড়া গ্রাম এলাকার পদ্মা নদীতে হঠাৎ এক যুবকের লাশ ভেসে ওঠে। এ সময় খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তারা দেখতে পান, পদ্মায় ভেসে থাকা ওই লাশটি নিখোঁজ বদেরের। পরে খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।      

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মির্জা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ দুর্বৃত্তরা তৌহিদুজ্জামান বেপারী ওরফে বদেরকে গুলি করে হত্যা নিশ্চিত করে পদ্মা নদীতে তার লাশ ফেলে পালিয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট ঘাতকদের দ্রুত খুঁজে বের করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জোর চেষ্টা চলছে। ’ 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি কাজ চলছে বলে জানান ওসি।


মন্তব্য