kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরাজগঞ্জে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভাঙ্গনরোধে পদক্ষেপ নিতে পারছে না পাউবো

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩৬



সিরাজগঞ্জে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভাঙ্গনরোধে পদক্ষেপ নিতে পারছে না পাউবো

গত ৫ দিন ধরে সিরাজগঞ্জের পাঁচ ঠাকুরীর যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ বাধে ভাঙ্গন দেখা দিলেও এখন পর্যন্ত একটি বালিভর্তি জিও ব্যাগ ফেলতে পারেনি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।  

এ বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় কাজ করতে হলে পাউবো’র বোর্ডের অনুমোদনসহ টাস্ক ফোর্সের কর্মকর্তার উপস্থিতির প্রয়োজন।

যেটির কোনটিই আমাদের হাতে নেই। যে কারণে ভাঙ্গন চললেও আমাদের দেখা ছাড়া আর কিছু করার নেই। আর আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতায় পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছে স্থানীয় মানুষ।
 
উল্লেখ্য, গত দু’দফা বন্যায় সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ডান তীর সংরক্ষণ বাধের ১৮ নম্বর প্যাকেজে দু’দফা ভাঙ্গনে অন্তত ২০০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর আবারো নতুন করে ভাঙ্গনের মুখে পড়ে আরো অন্তত ১০০ মিটার নদীগর্ভে চলে যায়। সেই সাথে বিলীন হয়ে যায় বাধের আশেপাশে বাস করা ২০টি বসতবাড়ি।

বসতবাড়ি হারানো জহুরা বেগম জানান, এক সময় নিজেদের ১০০ বিঘা জমি ছিল। নিজের জমিতে কাজ করানোর জন্য অন্তত ২৫টি দিনমুজুর থাকতো তাদের বাড়িতে। কিন্তু যমুনা নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে সব হারিয়ে আজ তার ছেলেকেই অন্যের বাড়িতে দিন মুজুরের কাজ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বাধের যে জায়গাটিতে বর্তমানে বসবাস করছেন, সেটাও ভাঙ্গনের মুখে। এ বাড়ি ভেঙ্গে গেলে কোথায় তাদের ঠাই হবে তা তারা জানেন না।

ষাটোর্ধ আকরাম আলী জানান, গরীবের কষ্টের কথা কেউ শোনে না। চোখের সামনে নিজের বাড়ির সব ভেঙ্গে চলে যেতে দেখলাম। কিন্তু কিছুই করার নেই। আজ ৫দিন হলো ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। কিন্তু কোন সরকারী লোক একবার এসে দেখলোও না আমরা কেমন অছি।

আলহাজ সিদ্দিক জানান, ১২ বিঘা জমি ছিল, ২ বিঘা জমি বাধের কাজের মধ্যে চলে গেছে। আর ৫ বিঘা জমি নদীতে নিয়ে গেছে। বাকি টুকুর মধ্যে কোন রকমে সবাই মিলে আছি। আমাদের দু:খের  কথা কেউ বুঝবে না। এর মধ্যে শুরু হয়েছে অনবরত বৃষ্টি। বৃষ্টি থামলেই আবারো ভাঙ্গন শুরু হবে। কোথায় যাবো কিচ্ছু জানি না।

ভাঙ্গনের বিষয়ে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আবুল কাসেম ফজলুল হক জানিয়েছেন, এই মুহুর্তে পাঁচ ঠাকুরীর ভাঙ্গন রোধে কিছু করা সম্ভব নয়। পাউবো’র বোর্ডে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর তাছাড়া কাজ করার সময় টাস্কবোর্ডের উপস্থিতিও জরুরী। তবে ইতিমধ্যেই একটি টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছে। চুড়ান্ত অনুমোদন এলেই কাজ শুরু হবে।  

তিনি আরো জানান, সিরাজগঞ্জ থেকে কাজিপুর পর্যন্ত বাধের ৩৮ কিলোমিটারের মধ্যে ২৯ কিলোমিটারই সুরক্ষিত। মাঝের ৯ কিলোমিটার নিয়ে একটু জটিলতা রয়েছে। তবে এবার শুষ্ক মৌসুমে এটুকুর সমাধান করা গেলে পুরো সিরাজগঞ্জ সুরক্ষিত হবে।


মন্তব্য