kalerkantho


মোবাইল চুরির অভিযোগে শিকলে বেধে কিশোরকে নির্যাতন

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৭



মোবাইল চুরির অভিযোগে শিকলে বেধে কিশোরকে নির্যাতন

মোবাইল চুরির অভিযোগে মেহেদী হাসান (১৪) নামের এক কিশোরকে ২ দিন বাড়ির উঠোনে গাছের সাথে লোহার শিকল দিয়ে বেধে রেখে অমানবিক নির্যাতন করেছে শিবচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছোট ভাই কামরুল হোসেন বেপারী। এ ঘটনাটি ঘটে শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের রহম আলী বেপারী কান্দি গ্রামে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটলেও নির্যাতিত মেহেদীর পরিবার পুলিশকে জানাতে সাহস পায়নি। নির্যাতনকারী প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিতে পারে এ আশঙ্কায় ওই কিশোরের পরিবার পুলিশকে জানানোর সাহস পায়নি। স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে শিবচর থানা পুলিশ আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাতে-পায়ে ও গলায় শিকল দেওয়া অবস্থায় মেহেদীকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

স্থানীয়, পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিবচরের কাদিরপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বি.কে নগর পশ্চিম কাজী কান্দি গ্রামের মনোয়ার খাঁনের ছেলে মেহেদী হাসান ডিস লাইনের কর্মী। সে বিভিন্ন গ্রামে ডিস লাইনের সংযোগ দিতো এবং মেরামতের কাজ করতো। ডিসকর্মী মেহেদী হাসান ঈদের আগে কামরুল হোসেন বেপারীর ঘরে ডিসের লাইনের কাজ করে। এরপর ওইদিন কামরুলের ২টি মোবাইল সেট হারিয়ে যায়। তাই তারা ডিসকর্মী মেহেদী হাসানকে সন্দেহ করে। এরই জের ধরে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার দিকে কামরুল হোসেন বেপারী ডিস লাইনের কাজ করার কথা বলে মেহেদী হাসানকে বাড়িতে ডেকে আনে। মেহেদী হাসান এলে তাকে মোবাইল চুরির অভিযোগে মারধর করে। এক পর্যায় বাড়ির একটি বদ্ধ ঘরে এবং পরে উঠোনের একটি কামরাঙ্গা কাছের সাথে হাতে-পায়ে ও গলায় লোহার শিকল বেঁধে আটকে রেখে দুই দিন ধরে শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকে। এই অমানবিক ঘটনা ঘটলেও কামরুলের বাবা-মা ভয়ে পুলিশকে জানায়নি। স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশ খবর পেলে আজ রবিবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটার দিকে মেহেদীকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ কামরুল হোসেন বেপারীকে আটক করতে গেলে তার বড় ভাই উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ছোট ভাইকে ছাড়িয়ে রাখে। এরপর থেকে সে পলাতক আছে।

এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উদ্ধারকারী শিবচর থানার এসআই জাকির হোসেন ও আলমগীর হোসেন বলেন, স্থানীয়ভাবে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত কামরুলের বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে তার বাড়ির একটি কামরাঙ্গা গাছের সাথে হাত-পা ও গলায় লোহার শিকল পড়া অবস্থায় দেখতে পাই। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি। তার অবস্থা গুরুতর।

শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাদিয়া তাসনিন মুনমুন বলেন, মেহেদী হাসানের পায়ের গিড়ার নিচে অনেক ক্ষত রয়েছে। তাছাড়া তার সারা শরীরেও অনেক আঘাতে চিহ্ন রয়েছে। তাই মেহেদীর এক্সেসহ পরীক্ষা-নিরাক্ষা চলছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ প্রসঙ্গে মেহেদী হাসানের মা পারুল বেগম বলেন, আমরা অনেক গরীব মানুষ। ওরা প্রভাবশালী। তাই ভয়ে পুলিশকে কিছু বলতে সাহস পাইনি। কারণ ওরা আমার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিবো বলে হুমকি দিয়েছে। তাছাড়া এখনও মামলা করতে সাহস পাচ্ছি না। কারণ ওরা বলেছে মামলা করলে আমাদের মেরে ফেলবে।  

মেহেদীর বাবা মনোয়ার খানও মামলার করার ব্যাপারে একই কথা বললেন।

এ প্রসঙ্গে শিবচর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বেপারী বলেন, আমার ভাই কামরুল হাসানের ২টি মোবাইল চুরি হয়েছে। তাই সে চোরকে ধরে জিজ্ঞাসা করেছে। এ সময় জিজ্ঞাসা করলে মেহেদী চুরি করা মোবাইল বিভিন্ন স্থানে রেখেছে বলে জানায়। তাই আমার ভাই মেহেদীকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও মোবাইল উদ্ধার করতে পারেনি। তবে মেহেদীকে শারীরিক নির্যাতন করা ঠিক হয়নি। আইনের হাতে তুলে দেওয়া উচিত ছিলো।

এ ব্যাপারে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন বলেন, এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।


মন্তব্য