kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লক্ষ্মীপুরে মা হত্যার বিচার চাইলেন সন্তানরা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:২৬



লক্ষ্মীপুরে মা হত্যার বিচার চাইলেন সন্তানরা

লক্ষ্মীপুরে যৌতুকের দাবিতে জান্নাতুল ফেরদাউস সুমি (৩০) হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার চাইলেন সন্তানরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং মরদেহের পুনরায় ময়নাতদন্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়।

আজ রবিবার দুপুর ১টার দিকে লক্ষ্মীপুর রিপোর্টাস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মামলার বাদী সেকায়েত হোসেন জানান, তিনি জান্নাতুল ফেরদাউস সুমির বড় ভাই। সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মাগুরী গ্রামে স্বামী জয়নাল আবেদীন বাড়ি নির্মাণ করার জন্য ৬ লক্ষ টাকা যৌতুক বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়। তাকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা না পেয়ে তিনি কারণে-অকারণে স্ত্রীকে শারিরীক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। ৮ আগস্ট রাতে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরদিন যৌতুকের দাবিতে স্বামী, দেবর ও শ্বাশুড়ি তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে তারা এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে আত্মহত্যা বলে প্রচারণা চালায়। এ ঘটনায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। অভিযান চালিয়ে পুলিশ মামলার আসামি স্বামী জয়নাল, শ্বাশুড়ি মরিয়ম বেগম, দেবর মোঃ হোসেন ও ননদ সুমিকে গ্রেপ্তার করে। তারা বর্তমানে জেলা কারাগারে রয়েছে। নিহত সুমি উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হাবিব উল্যার মেয়ে।

তিনি আরো জানান, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমির সন্তান জোবায়ের হোসেন (১১) ও মোঃ জিহাদের (৩) জবানবন্দি নেয়। ঘটনাটিকে তারা হত্যাকাণ্ড বলে জবানবন্দি দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে আসামি পক্ষের লোকজনের প্ররোচনায় সংশ্লিষ্টরা প্রভাবিত হয়ে ময়নাতদন্ত ও পুলিশ রিপোর্টে আত্মহত্যা বলে আদালতে চুড়ান্ত রিপোর্ট  দাখিল করা হয়। এরপর মামলার বাদী পুলিশ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের প্রতি আদালতে অনাস্থা জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন নিহতের ছেলে মোঃ জোবায়ের হোসেন (১১), মেয়ে সায়মা আক্তার মীম (৮), ছোট ছেলে জিহাদ হোসেন (৩), ভাই সেকায়েত হোসেন, জাকির হোসেন সুমন, জামাল উদ্দিন ও কামাল হোসেন।


মন্তব্য