kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফেইসবুকে সমস্যার সমাধান

সোসাল মিডিয়া ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেল ঝালকাঠি জেলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৫২



সোসাল মিডিয়া ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পেল ঝালকাঠি জেলা

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল দক্ষিণ আউড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী আনু হাওলাদার জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই তিনি কাটিয়েছেন ৩৪ বছর।

হামাগুড়ি দিয়ে পথ চলা অথবা অন্যের সাহায্য ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়া অসম্ভব ছিল তার জীবনে। অসহায় এ প্রতিবন্ধীকে নিয়ে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনের ফেইসবুক টাইমলাইনে একটি ছবিসহ লেখা দেয় এক যুবক। জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী লেখাটি দেখে আনু হাওলাদারের খোঁজ-খবর নেন। চলাফেরা করার জন্য একটি হুইল চেয়ারও তুলে দেন আনুকে। শুধু আনুর জন্য সহানুভুতি নয়, জেলা প্রশাসক ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলার বেশ কিছু সমস্যা ফেইসবুকের মাধ্যমে পেয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান করেছেন। যাতায়াতের জন্য সড়ক মেরামত, বাল্য বিয়ে বন্ধ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থাসহ নানা কাজে প্রশংসা কুড়িয়েছেন মো. মিজানুল হক চৌধুরী। আর তাঁর এই কাজের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। ফেইসবুকের মধ্যেমে দ্রুত নাগরিক সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সোসাল মিডিয়া ইনোভেশন এ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় ঝালকাঠি জেলা প্রশাসনকে। জেলা প্রশাসকের এ কৃর্তি তিনি উৎসর্গ করেছেন ঝালকাঠির আপামার জনগণকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি ফেইজবুক গ্রুপ আইডি খোলা হয়। জেলা প্রশাসকেরও একটি ফেইসবুক আইডি রয়েছে। এই আইডি না থাকলে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কথা হয়তো এক সময় জেলা প্রশাসকের কান পর্যন্ত পৌঁছাতো না। প্রযুক্তির সফলতায় গ্রামের মানুষও এখন ফেইসবুক ব্যবহার শিখেছে। তাই জেলা প্রশাসনের দুটি ফেইসবুক আইডিই সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জেলার সকল সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা জানতে চেয়ে জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী আহ্বান জানান তার টাইমলাইনে। এমনকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের ফেইসবুক আইডিও জনকল্যাণে ব্যবহার করার নির্দেশ দেন তিনি। সব মিলিয়ে চার উপজেলার প্রশাসনের সবখবরই ফেইসবুকের মাধ্যমে জানতে পারছেন জেলাবাসী।  

জেলা প্রশাসকের আহ্বানে সারা দিয়ে প্রতিদিনই কোন না কোন ঘটনার খবর দিচ্ছেন ফেইসবুক ব্যবহারকারী জেলার বাসিন্দারা। গুরুত্বের সাথে এ খবরগুলো তদারকি করছেন জেলা প্রশাসক নিজেই। সমস্যা সংক্রান্ত কোন খবর পেলেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধানের পথও তৈরি করছেন তিনি। কখনো প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার দিয়ে, কখনো নিজেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে খানাখন্দের কাজ তদারকি করে। কখনো নদীর তীব্র স্রোতে গৃহহারা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, কখনো আবার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। শুধু তাই নয়, বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে এক রকমের যুদ্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।  

বর্তমানে জেলায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে বাল্য বিয়ে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও সাজা দেওয়ায় বাল্য বিয়ে থেকে সরে এসেছেন অনেক অভিভাবকই। বাংলার আপেলখ্যাত ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলী গ্রামে একটি পর্যন্টন কেন্দ্র ও কাঁঠালিয়ার ছৈলার চরে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে।  
সম্প্রতি বন্যায় আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে ভাসমান বীজতলা তৈরি করে চাষীদের বীজ সরবরাহেও তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী বলেন, এ জেলার বাসিন্দাদের সমস্যার কথা যারা ফেইসবুকে তুলে ধরেছেন, আমি তাৎক্ষণিক তা সমাধান করেছি। ফেইসবুক মানুষের সাথে জেলা প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগের একটি মাধ্যম। এখানে সবাইকে লেখার আহ্বান জানান তিনি।


মন্তব্য