kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গৌরনদীতে হুমকিতে হত্যা মামলার বাদীর মৃত্যু, নতুন বাদীকেও একই হুমকি

গৌরনদী প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:২২



গৌরনদীতে হুমকিতে হত্যা মামলার বাদীর মৃত্যু, নতুন বাদীকেও একই হুমকি

যৌতুকের দাবি পূরণ না করা ও স্বামীর পরকিয়ায় বাধা দেওয়ায় দাম্পত্য কলহকে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও স্বাসরোধ করে স্ত্রীকে হত্যা করে পাষণ্ড স্বামী। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর মামলা প্রত্যাহারে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হত্যার হুমকিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মামলার বাদী।

পরবর্তিতে নিহতের বড় বোন ওই মামলার বাদী হন। একই ভাবে মামলা প্রত্যাহারে তাকেও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে স্বামী ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিছেন হত্যা মামলার বাদী শাহনাজ বেগম।

নিহতের বড় বোন শাহনাজ বেগম জানান, বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চন্দ্রহার গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী হাওলাদারের পুত্র উত্তরা ব্যাংকের গাড়িচালক ইসমাইল হাওলাদার (৪৫) পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন করে একই উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের লক্ষনকাঠী গ্রামের দিনমুজর শাহজাহান আকনের কনিষ্ঠ কন্যা মনি আক্তার (২৮)কে ২০১৪ সালে বিয়ে করেন। বিয়ের পরে কিছুদিন যেতে না যেতে স্বামী ইসমাইল বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে ২ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। স্ত্রী মনি বাবার কাছ থেকে টাকা আনতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর শুরু করে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহ হয়। পরে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে মিমাংসার পর ২০১১ সালে ইসমাইল হাওলাদার মনিকে নিয়ে ঢাকায় গিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার আজিজুল পেসকারের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাদের সিয়াম নামে নয় মাসের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকায় বাসা নেওয়ার পর মোহাম্মদ ইসমাইল অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। যৌতুক দাবিসহ এ নিয়ে প্রায়ই তার বোনের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ হত এবং বোনকে মারধর করত ইসমাইল। গত ৫ জুন ছোট বোন মনি তাকে মুঠোফোনে বলেছিলে আপা তোরা আমাকে নিয়ে যা নতুবা ও (স্বামী) আমাকে মেরে ফেলবে। আমাকে বাঁচতে দিবে না। অবশেষে মনির কথাই সত্যি হল।

শাহনাজ বেগম বলেন, ‘আমার বোনের হত্যাকারী বোন জামাই মোহাম্মদ ইসমাইল বোনের পর আমার বাবাকে হত্যা করেছে। এখন মামলা প্রত্যাহারে আমাকে ভয়ভীতি দেখান। মামলা তুলে না নিলে আমাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। প্রায়ই সন্ত্রাসীদের বাড়ি পাঠিয়ে এবং মুঠোফোনে হুমকি দিয়ে আমাকে বলেন, কথামত না চললে বোনের ও বাবার পথ ধরে তোকেও মরতে হবে। বর্তমানে সন্ত্রাসীদের হুমকির মুখে আমি সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। ’

এ অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মোহাম্মদ ইসমাইলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।  

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) মাসুদ রানা বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। বাদিকে হুমকি দেওয়ার বিষয় সম্পর্কে আমি অবহিত নই।

থানা পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় বোন জামাই মোহাম্মদ ইসমাইল স্ত্রী মনিকে নির্যাতন করে এক পর্যায়ে শ্বাষরোধ করে হত্যা করার পর বাবা শাজাহান আকনকে মুঠোফোনে জানান, মেয়ে মনি হার্ট এ্যাটাক করে (হৃদরোগে) মারা গেছে। স্বামী ইসমাইল এ বিষয়টি পুলিশকে অবহিত না করে তড়িঘড়ি করে নিজ বাড়ি গৌরনদীর চন্দ্রহার গ্রামে এসে লাশ দাফনের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে নিহত মনির স্বজনরা গৌরনদী মডেল থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করলে পুলিশ ফতুল্লা থানাকে বিস্তারিত জানিয়ে স্বামী মোহাম্মদ ইসমাইলকে আটক করে এবং মনিরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে পাঠান। এ ঘটনায় ১৪ জুন নিহতের পিতা শাহজাহান আকন বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপরে আসামি মোহাম্মদ ইসমাইল চলতি মাসে জামিনে ছাড়া পেয়ে ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের বাদী শাহজাহান আকনের বাড়িতে পাঠান। সন্ত্রাসীরা মামলা প্রত্যাহারে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেন। হুমকির মুখে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বাদী শাহজাহান আকন হৃদযন্ত্রের ক্রীয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। পরবর্তিতে মামলার বাদী হন নিহত মনির বড় বোন শাহনাজ বেগম।


মন্তব্য