kalerkantho


ভোলায় জোয়ারের পানিতে ৫ শতাধিক একর জমির আমন ধানের চারা নষ্ট

ভোলা প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫৩



ভোলায় জোয়ারের পানিতে ৫ শতাধিক একর জমির আমন ধানের চারা নষ্ট

ভোলার মনপুরায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। ফলে আমবশ্যা ও পুর্ণিমার সময় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ভিতরে ঢুকে পাঁচটি গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক একর রোপনকৃত আমন ধানের চারা সম্পূর্ণ পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতাজনিত কারণে ২ নম্বর হাজির হাট ইউনিয়নের চরযতিন, পূর্ব সোনারচর ও ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের কাউয়ারটেক, চৌমহনি, পূর্ব কুলাগাজির তালুক ও ঈশরগঞ্জ গ্রামের রোপা আমন ধান পচে যাচ্ছে। জোয়ারের সময় বেড়িবাঁধের ভেতরে পানি ঢুকে আমন ধানের চারা ডুবে যায়। পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় পানি সরাতে পারছেন না কৃষকরা।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মনপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুলাগাজির তালুক, ঈশ্বগঞ্জ, চৌমহনী গ্রাম ও হাজির হাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজার পূর্ব পার্শ্বের পাকা রোড সংলগ্ন বেড়িবাঁধ ভেঙে পূর্ব সোনার চর ও চরযতিন গ্রামের ভেতরে জোয়ারের পানি ঢুকছে। জোয়ারের প্রবল স্রোতের কারণে পাকা রোডের ওপর নবনির্মিত ব্রিজটি ভেঙে তলিয়ে গেছে। আমন ধানের ক্ষেত এখন খালে পরিণত হয়েছে। সেই খাল দিয়ে চলছে ছোট ছোট নৌকা। আশপাশের রোপনকৃত আমন ধানের চারা সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে পানির নিচে থাকা আমন ধানের চারা পচে যাচ্ছে। কৃষকরা নিরুপায়। তাদের চোখে-মুখে এখন হতাশার ছাপ। ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের সামনে দ্রুত রিং বেড়ি নির্মাণ না করা হলে প্রতিদিন জোয়ার-বাটায় ফসলের আরো ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। জলাবদ্ধ অবস্থায় থেকে শত শত একর জমির আমন ধান পচে যাচ্ছে। জমি লগ্নি, বীজ সংরক্ষণ, বীজ প্রস্তুত, জমি তৈরি, চারা রোপন, আগাছা পরিস্কারসহ নানা কাজে কৃষকের হাজার হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে। নতুন করে রোপন করার জন্য এখন বীজ তলায় আমন ধানের চারাও নেই। এ অবস্থায় নানাবিধ দুশ্চিন্তায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তারা কৃষি বিভাগ থেকেও তেমন কোন সহযোগিতা পাচ্ছেন না।  

পুর্ব সোনারচর গ্রামের ছলেমান, জলিল, রফিক জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে তাদের গ্রামের রোপনকৃত আমন ধানের চারা সম্পূর্ণ পচে যাচ্ছে। পানি সরাতে না পারায় আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। তারা হাজার হাজার টাকা খরচ করেও কোন লাভ হয়নি। এখন তারা কি করবেন তা বুঝতে পারছেন না।

মনপুরা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১২ হাজার ৩৫০ হেক্টর আবাদি জমিতে এবার আমন ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা। কিন্তু ফসল ঘরে উঠতে না উঠতে দেখা দিয়েছে রোপনকৃত আমন ধানের পচন। কৃষকের মুখের হাসি কেড়ে নিচ্ছে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে প্রবেশ করা জোয়ারের পানি।

এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা কৃষি অফিসার হারুন অর রশিদ, উপ-সহকারি কৃষি অফিসার বাবু গোপি নাথ দাস বলেন, আমরা আমন ধানের চারা পচে যাওয়ার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিন্তু এ ব্যাপারে এখনো কোন নির্দেশ পাইনি। ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয় আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি।


মন্তব্য