kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনা

নিহত বাবুল ও শহিদুলকে হারিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম

গৌরনদী প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৪৯



নিহত বাবুল ও শহিদুলকে হারিয়ে পরিবারে চলছে শোকের মাতম

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বরিশালের আগৈলঝাড়ার বাবুল হাওলাদার ও সহদোর শহিদুল হাওলাদারকে হারিয়ে তার পরিবারটি এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। উপার্যনক্ষম দুই ভাইকে হারিয়ে ওই পরিবারটির সামনে এখন শুধুই অন্ধকার।

বাবুল ও শহিদুলের বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী, সন্তান ও প্রতিবন্ধী ভাই আগামী দিনগুলির কথা ভেবে কেবলই পাগলের মতো বিলাপ করছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংবাদ মুঠোফোনে পাওয়ার পর পরিবারটির আহাজারিতে আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ছয় গ্রামসহ আশপাশের এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এমনকি পরিবারটির আর্তনাদে এলাকার হাজার হাজার লোক ওই বাড়িতে এসে তাদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

সরেজমিনে নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্মপুর ইউনিয়নের ছয় গ্রামে গিয়ে দেখা যায় নিহত বাবুল ও তার ছোট ভাই সহিদুলের বাবা-মা ও নিহতর স্ত্রী ও স্বজনরা বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। নিহতর পিতা আঃ হাকিম হাওলাদার জানান, ১০ থেকে ১২ বছর আগে পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে জমি-জমা বিক্রি করে শহিদুল ও বাবুলকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। বাবুল স্যানিটারী মিস্ত্রী ও তার ছোট ভাই সহিদুল টাইল্স মিস্ত্রীর কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবুল (৪৭) ও সহিদুল (৩৬) নিহত হয়। দুপুরে বাবুল ও শহিদুলের মৃত্যুর সংবাদ সহকর্মী মিন্টু মৃধা তার পরিবারকে মুঠোফোনে জানান। একই সঙ্গে তিনি তার ছেলেদের লাশ তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে পারে সরকারের কাছে সেই দাবি করেছেন।  

বৃদ্ধা মা নুরজাহান আর্তনাদ করে বলেন, ‘কে আমার শহিদুল ও বাবুলকে আমার বুকে এনে দেবে ? কে চালাবে তাদের সংসার ? কিভাবে চলবে তাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া। ’ 

নিহত শহিদুলের স্ত্রী সালমা বেগম বলেন, ‘মৃত্যুর আগের দিন ফোনে আমার সাথে তার শেষ কথা হয়। তখন আমার স্বামী বলেন, আমার আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাড়িতে টাকা পাঠাতে দেরি হবে। মেয়ে অথৈ ও আতিয়ার দিকে খেয়াল রেখে’।  

নিহত বাবুলের স্ত্রী শিরিন বেগম বলেন, আমার নাবালক ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়াবো ? আমার সংসার কে চালাবে এবং বৃদ্ধা শশুর-শাশুড়িকে কে দেখবে।  

নিহত বাবুল ও শহিদুলের ছোট ভাই প্রতিবন্ধী নান্নু হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিলাপ করে বলেন, ভাইয়েরা আমাকে চিকিৎসাসহ আর্থিক সহযোগিতা করত। তাদের মৃত্যুতে এখন আমি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। আমাকে কে দেখবে এবং আমি কিভাবে বাঁচব। নিহত বাবুলের চার বছরের মেয়ে হিমি জানে না তার বাবা চলে গেছে না ফেরার দেশে। হিমি পিতার ছবি নিয়ে অপেক্ষায় আছে তারা বাবা তার কাছে কবে আসবে।  


মন্তব্য