kalerkantho


নড়াইলে জিংক সমৃদ্ধ চাল ব্রি-৬২ বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে

নড়াইল প্রতিনিধি    

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৪৩



নড়াইলে জিংক সমৃদ্ধ চাল ব্রি-৬২ বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে

প্রত্যেক মানুষের জন্য অত্যাবশ্যকীয় অনুপুষ্টি উপাদান জিংক সমৃদ্ধ চাল নড়াইলে প্রথম বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। গত বুধবার থেকে নড়াইলের উজিরপুর অর্গানিক বহুমুখী সমবায় সমিতি তাদের শহরের কুড়িগ্রামের নিজস্ব কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সষ্টিটিউটের উদ্ভাবনকৃত জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-৬২ ধান থেকে চাল উৎপাদন করে তা বাজারজাত শুরু করেছে।
 
নড়াইল কৃষি অধিদপ্তরের জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা এসএম ফেরদৌস, হারভেষ্ট প্লাস, যশোর অঞ্চলের কৃষি গবেষণা কর্মকর্তা মোঃ মজিবর রহমান, উজিরপুর অর্গানিক বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সায়েদ আলী শান্ত উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচি চালু করেন।
 
জানা গেছে, উজিরপুর অর্গানিক বহুমুখী সমবায় সমিতি তাদের সদস্য এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় গত আমন মৌসুম থেকে জিংক সমৃদ্ধ ব্রি-৬২ বীজ বিতরণ এবং উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সষ্টিটিউট থেকে এবং হারভেষ্ট প্লাস প্রোজেক্টের মাধ্যমে সদর উপজেলার আগদিয়া, গোবরা, উজিরপুর, ধোপাখোলা, মাইজপাড়া এলাকার কৃষকদের মধ্যে এই বীজ বিতরণ করে ধান উৎপাদন করছে সমিতিটি। এ বছর এই এলাকার ১০০ একর জমিতে পুষ্টি সমৃদ্ধ ২০০ মেঃ টন চাল বাজারজাতকরণের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সদরের বীড়গ্রাম এলাকার ব্রি-৬২ ধান উৎপাদনকারী কৃষক দেবব্রত গোলদার বলেন, আমারা সমিতির মাধ্যমে প্রতি মন ব্রি-৬২ ধান ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। আমার জমিতে আমন মৌসুমে উফসী জাতের ব্রী-৩৩ ধান রোপন করতাম। গত মৌসুম থেকে এই ধান উৎপাদন করে অনেক বেশী লাভবান হয়েছি।

উজিরপুর বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার সায়েদ আলী শান্ত বলেন, দেশে বিচ্ছিন্নভাবে এই ধান উৎপাদন হলেও বানিজ্যিকভাবে এ চাল বাজারজাতকরণ সম্ভব হয়নি। নড়াইল থেকেই প্রথমবারের মতো এ চালের বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। প্রথমবার বিধায় উৎপাদন খরচ বেশী হয়েছে। আমরা প্রতি কেজি চাল ৫৫ টাকা দরে বিক্রি করছি। আগামীতে নিয়ম অনুযায়ী করতে পারলে আরো কম দামে সাধারণ মানুষের কাছে এই চাল পৌঁছে দিতে পারলে একদিকে যেমন পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে, অন্যদিকে উৎপাদনকারী কষক ও লাভবান হবে। ভালো বাজার পেলে আগামীতে আরো বেশী এলাকার কৃষকদের এই ধান চাষে উদ্ধুদ্ধ করা হবে।
 
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সষ্টিটিউটের জিআরএস বিভাগের সাবেক প্রধান এবং বাংলাদেশ হারভেষ্ট প্লাসের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. খায়রুল বাসার বলেন, গর্ভবতী মা, নবজাতক, শিশু ও কিশোরদের জন্য জিংক অত্যাবশ্যকীয় অনুপুষ্টি উপাদান। এ উপাদান মাছ, মাংস, ডিম, দুধে থাকলেও তা অনেক দামী হওয়ায় আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ তা সবসময় গ্রহণ করতে পারে না। দেশিয় বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত ব্রি-৬২ ধানের প্রতি কেজি চালে ১৯-২০ মিঃ গ্রাম জিংক রয়েছে। খুব সহজেই এ চাল থেকে প্রতিদিন অর্ধেকের বেশী জিংক পুষ্টি গ্রহণ করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে বানিজ্যিকভাবে এখনও এ চাল বাজারজাতকরণ শুরু না হওয়ায় মানুষ এর সুফল পাচ্ছে না। উজিরপুর অর্গানিক বহুমুখী সমবায় সমিতি বানিজ্যিকভাবে এ চাল বাজারজাত শুরু করছে। এটা শুভ উদ্যোগ।
 
নড়াইল কৃষি অধিদপ্তরের জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা এস এম ফেরদৌস বলেন, উজিরপুর বহুমুখী অর্গানিক সমবায় সমিতি বাংলাদেশ সরকারের কৃষি মন্ত্রনালয়ের রেজিষ্টার্ডভুক্ত সমিতি। এ সমিতির মাধ্যমে জিংক সমৃদ্ধ চাল বাজারজাতকরণের উদ্যোগ সফল হলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। পরবর্তীতে এই ধান জেলার আরো কয়েক শ একর জমিতে উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 

 


মন্তব্য