kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংকের ঋণ উত্তোলন, তদন্ত কমিটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:০১



স্বাক্ষর জাল করে সোনালী ব্যাংকের ঋণ উত্তোলন, তদন্ত কমিটি

সোনালী ব্যাংক গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী শাখার গ্রাহকের সঞ্চয় স্কিম থেকে আমানতকারীদের স্বাক্ষর জাল করে লাখ লাখ টাকা ঋণ ব্যাংকের একটি চক্র উত্তোলন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন, সোনালী ব্যাংক লি. গাইবান্ধা প্রিন্সিপাল অফিসের সিনিয়র অফিসার প্রিন্সিপাল (এসপিও) দেবেশ চন্দ্র সরকার। অন্য সদস্যরা হলেন, একই অফিসের সিনিয়র অফিসার প্রিন্সিপাল (এসপিও) সাইদারুল ইসলাম ও সিনিয়র অফিসার যতিময় সরকার।

ভরতখালী গ্রামের আমানতকারী রিপা চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি আমার এমডিএস সঞ্চয় স্কিম থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি আমার নামে ৫৫ হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেন একই এলাকার রিনা খাতুন। তার নামে উত্তোলনকৃত ঋণ ৪৭ হাজার টাকা।

ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা রন্দ্রিনাথ বণিক বলেন, আমার এমডিএস সঞ্চয় স্কিম থেকে ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকের কাছে ঋণ গ্রহণের জন্য সম্প্রতি প্রস্তাব দেই। কিন্তু তিনি দেই দিচ্ছি বলে টালবাহানা করতে থাকেন। পরে জানতে পারি আমার সঞ্চয় স্কিম থেকে এক লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তারা জানান, স্বাক্ষর জাল করে এই ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকসহ একটি চক্র অবশ্যই জড়িত আছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যাংকের ওই শাখার দুজন কর্মকর্তা জানান, এই শাখায় ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদি শিক্ষা, সোনালী ও চিকিৎসা সঞ্চয় স্কিম ইডিএস, এসডিএস ও এমডিএস এর পাঁচ শতাধিক আমানতকারী আছে। এর মধ্যে ২৯৮ জন গ্রাহকের হিসাব থেকে অন্তত গড়ে ৪৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। এর মধ্যে জালিয়াতচক্রটি একাধিক গ্রাহকের অজান্তে তাদের হিসাব থেকে আমানতকারীর পূর্বের ছবি ও স্বাক্ষর করা কাগজ পরিবর্তন করে সাজানো লোক হাজির করে ঋণ উত্তোলন করেছেন। প্রকৃত সংখ্যটি এখনও জানা যায়নি। সূত্রটি আরও জানান, সম্প্রতি কয়েকজন গ্রাহক তাদের সঞ্চয় স্কিম থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ব্যাংকে আসলে শাখা ব্যবস্থাপক আবদুল্লাহ আল-মামুনের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়। ফলে বিষয়টি প্রকাশ পায়। শাখা ব্যবস্থাপক দায়ভার এড়াতে তড়িঘড়ি করে ঋণ গ্রহীতাদেরকে ঋণ পরিশোধ করার জন্য নোটিশ দেন। নোটিশ পেয়ে গ্রাহকরা হতবাক হয়ে ব্যাংকে ভিড় জমান। আমানতকারীরা সোনালী ব্যাংক লি. গাইবান্ধা প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারের (ডিজিএম) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের স্বীকার। ব্যাংকের অনিয়মিত অস্থায়ী কর্মচারী টি-বয় আলমগীর গাঢাকা দিয়েছে। ওকে ধরতে পারলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

তিনি আরও বলেন, ইতিমধ্যে রিপা, রিনা, কেরামত উল্লাহ, রবিন্দ্রনাথ, সন্ধ্যা রায়সহ বেশকিছু আমানতকারীদের হিসাবে উত্তোলনকৃত ঋণের টাকা জমা করা হয়েছে। কিন্তু কারা এই টাকা জমা করলেন এ প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান।

তদন্ত কমিটির প্রধান সোনালী ব্যাংক লি. গাইবান্ধা প্রিন্সিপাল অফিসের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার (এসপিও) দেবেশ চন্দ্র সরকার জানান, তদন্ত অব্যাহত আছে। তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।

সোনালী ব্যাংক লি. গাইন্ধার প্রিন্সিপাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) হাসিম উদ্দিন বলেন, সব আমানতকারীর আমানত সুরক্ষিত আছে। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য