kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ওলামা দল নেতা মুকুল হত্যার প্রধান আসামিসহ আটক ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা    

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২৫



ওলামা দল নেতা মুকুল হত্যার প্রধান আসামিসহ আটক ৩

কুমিল্লা জেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি এ কে এম রকিব উদ্দিন মুকুল হত্যার প্রধান আসামি যুবদল নেতা মো. আরিফসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছে দুইটি পিস্তল, দুইটি শুটার গান, দুইটি এলজি বন্দুক এবং ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

আজ বুধবার ভোরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রেস ব্রিফিংকালে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আলী আশরাফ ভূঁইয়া।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ মে ভোর ৫টার দিকে এ কে এম রকিব উদ্দিন মুকুলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় ওইদিনই তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে আজ বুধবার ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেনের নেৃতত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি এ কে এম মনজুর আলমসহ সঙ্গীয় ফোর্স কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ময়নামতি সুপার মার্কেটের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মুকুল হত্যার প্রধান আসামি আরিফকে মোটরসাইকেলসহ আটক করে। এ সময় ডিবি পুলিশ আটককৃত আসামি আরিফের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ থেকে একটি পিস্তল, দুইটি শুটার গান, দুইটি এলজি বন্দুক এবং ১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে।

পুলিশ আসামি আরিফকে তাৎক্ষণিকভাবে মুকুল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি স্বীকার করেন যে, গত ১৩ মে বিকেল ৫টায় পিস্তল দিয়ে মুকুলের মাথায় গুলি করে পালিয়ে যান। যে পিস্তল দিয়ে গুলি করেছিলেন তা তার বন্ধু ফরহাদের কাছে রয়েছে। পুলিশ তার দেওয়া তথ্যমতে চাঙ্গিনীতে ফরহাদের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ফরহাদকে আটক করে। আরিফ ও ফরহাদকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে ফরহাদ একপর্যায়ে পিস্তলের বিষয় স্বীকার করে এবং পিস্তলটি তার বন্ধু বলরামপুরের মোহন মিয়ার কাছে জমা রেখেছেন বলে জানান।

পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেনের নেতৃত্বে আটক আরিফ ও ফরহাদকে নিয়ে বলরামপুর মোহন মিয়ার বাসায় পুলিশ অভিযান চালায় ও মোহন মিয়াকে আটক করে। আটক তিনজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফরহাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মোহন মিয়া তার বসতঘরের ড্রেসিং টেবিলের নিচের ড্রয়ার থেকে মুকুল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল এবং পাঁচ রাউন্ড গুলি বের করে দেন। আরিফ তা শনাক্ত করে ও সাক্ষীদের মোকাবেলায় স্বীকার করেন এ পিস্তল দিয়েই তিনি মুকুলের মাথায় গুলি করেন।

আটক আসামিরা হলেন কোতোয়ালি থানাধীন নোয়াপাড়ার আ. গফুর মেম্বারের ছেলে  মো. আরিফ (৩৫), ফেনী জেলার ফুলগাজী থানাধীন মনতলা মজুমদার বাড়ির আ.  মান্নানের ছেলে মো. আবদুর গফুর (৩৫) ওরফে ফরহাদ বর্তমানে কুমিল্লা চাঙ্গিনী এলাকায় কাউন্সিলর মো. আবুল বাসারের সচিবের ভাড়াটিয়া ও কুমিল্লার কোতোয়ালি  থানাধীন বলরামপুরের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে মো. মোহন মিয়া (৩৫)।

পুলিশ জানায়, তাৎক্ষণিকভাবে থানায় রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই করে জানা যায় আসামি মো. আরিফের বিরুদ্ধে তিনটি মামলাসহ ১১টি মামলা রয়েছে। উল্লেখ্য, এ কে এম রকিব উদ্দিন মুকুলকে গত ১ মে ফজরের নামাজ পড়ে ফেরার পথে নোয়াপাড়ায় তার বাড়ির সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি একজন ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন।

 


মন্তব্য