kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কক্সবাজারে আমন ধানে পোকা-মাকড় উপস্থিতি জরিপে আলোর ফাঁদ স্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:১৭



কক্সবাজারে আমন ধানে পোকা-মাকড় উপস্থিতি জরিপে আলোর ফাঁদ স্থাপন

কক্সবাজার জেলায় আমন ধানক্ষেতে ‘আলোর ফাঁদ’ বসিয়ে পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি জরিপের কাজ শুরু হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মীরা কৃষকদের সহযোতিায় ‘আলোর ফাঁদ’ বসিয়ে পোকা-মাকড় সনাক্তকরণ কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

রাতের বেলায় বৈদ্যুতিক আলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে এসে জড়ো হয় পোকা-মাকড়। সেই পোকা মাকড়ের দল বৈদ্যুতিক ভাল্বের নিচে রাখা গামলা ভর্ত্তি সাবান মাখা পানিতে পড়ে আকটা পড়ে যায়। তখনই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মীরা পোকা সনাক্ত করে কৃষকদের ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
 
কক্সবাজার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আ,ক,ম শাহরীয়ার কালের কণ্ঠকে জানান, পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষার জন্য কৃষকরা সন্দেহজনকভাবে ক্ষেতে এমনিতেই পোকা দমনের বিষ ষ্প্রে করে থাকেন। অথচ কৃষকরা বিষ ষ্প্রে করেন ক্ষেতে আদৌ পোকার আক্রমণ হয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত না হয়েই। আর এতে করে ক্ষেতে কৃষকের ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই ফসলের শত্রু ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের সনাক্তকরণ কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের ৮ জেলায় গতকাল সোমবার পর্যন্ত ৭৬ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। ফসলের ক্ষতিকর পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি জরিপ করার জন্য জেলায় ১৩৮টি আলোর ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। এ এলাকা বাদামী গাছ ফড়িং আক্রান্ত প্রবণ এলাকা। তাই পূর্ব প্রস্তুতি হিসাবে আলোর ফাঁদ স্থাপনের মাধ্যমে পোকার উপস্থিতি যাচাই করা হচ্ছে।
 
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শাহরীয়ার জানান, বাদামী গাছ ফড়িং ধানের একটি অন্যতম ক্ষতিকর পোকা। এ পোকার আক্রমণে ফসলের ২০% থেকে ১০০% পর্যন্ত ক্ষতি হয়। পূর্ব থেকে যাচাই এর মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে কোন ক্ষতি করতে পারে না।  

তিনি আরো জানান, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় বাদামী গাছ ফড়িংয়ের উৎপাত বেশী হয়। ধারণা করা হচ্ছে, মিয়ানমার সীমান্তবর্তী ঘন বনাঞ্চল থেকেই এসব পোকার ব্যাপক আগমন ঘটে। এ কারণেই সমন্বিত বালাই ব্যবস্থা প্রকল্পের আওতায় এবং কৃষক উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে ‘আলোর ফাঁদ’ গুলো স্থাপন করা হচ্ছে। আলোর ফাঁদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির জন্য উপজেলা কৃষি অফিসারদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।  


মন্তব্য