kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাদ্রাসার ক্যান্টিনে ছাত্রী ধর্ষণ

মনোহরগঞ্জে ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩১



মনোহরগঞ্জে ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন, মানববন্ধন

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের লক্ষণপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ক্যান্টিনে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে মাদ্রাসা এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষকের বিচারের দাবিতে আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো ওই মাদ্রাসার শিক্ষকক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে।

শুধু মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাই নয় ওই ধর্ষকের বিচার চেয়ে আন্দোলন করছেন স্থানীয় এলাকাবাসীও।

ওই মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী কালের কণ্ঠকে জানায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী লক্ষণপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার ক্যান্টিন পরিচালক কামাল হোসেন ওই মাদ্রাসায় পড়ুয়া ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ক্যান্টিনের ভিতরে ধর্ষণ করে। ধর্ষক কামাল হোসেন উপজেলার ভাউপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। ওই ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বিভিন্নভাবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল এ ঘটনাটির বিচার করা হবে বলে তালবাহানা শুরু করেন। কিন্তু ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও ধর্ষকের কোন বিচার হয়নি। উল্টো ওই ধর্ষক অসহায় ছাত্রীর পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ও আজ মঙ্গলবার ওই মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। আজও ক্লাস বর্জন করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

মাদ্রাসার অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার মধ্যে দিনের বেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটার পরও আজ পর্যন্ত ধর্ষক গ্রেপ্তার হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছি। তারা আরও বলেন, ধর্ষকের শাস্তি না হওয়া পর্যন্তু আমরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাবো।

এদিকে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লক্ষণপুর ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ছানা উল্যাহ বাশারী ধর্ষণের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ শাহজাহান বলেন, ধর্ষকের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়েছে। আশা করি সভায় এর একটা সমাধান হবে।

এ বিষয়ে লক্ষণপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, আমি চাই এ ঘটনার সঠিক বিচার হোক। আমি আশাবাদী মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনবেন। যাতে ভবিষ্যতে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের কোন ঘটনা না ঘটে।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ মো. তৈয়ব হোসেন বললে, ঘটনাটি আমি শুনেছি। এটি দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও তাদের বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে মনোহরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো.সামছুদ্দিন ইলিয়াছ মঙ্গলবার দুপুরে কালের কন্ঠকে বলেন, আমরা এ ঘটনার খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে মাদ্রাসা ছুটি হলে সকল শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে যায়। এই সময়ে মাদ্রাসার ক্যান্টিনটিও বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির দুজন ছাত্র ক্যান্টিনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ক্যান্টিনের ভিতর থেকে ৭ম শ্রেণির ওই ছাত্রীর চিৎকার শুনতে পান। পরে বিষয়টি তারা মাদ্রাসার অফিস সহকারী সহিদ ও ঝাড়ুদার বাবুলকে জানায়। এ সময় টের পেয়ে সু-কৌশলে ক্যান্টিনের মালিক কামাল হোসেন সাটার খুলে ভিতর থেকে বের দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।


মন্তব্য