kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শেরপুরে কনস্টেবলের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তিন তদন্ত কমিটি

শেরপুর প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:২৩



শেরপুরে কনস্টেবলের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে পুলিশের তিন তদন্ত কমিটি

শেরপুর জেলা পুলিশ লাইন্সের নিহত পুলিশ কনস্টেবল রাকিবুল হাসানের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডি ও র‌্যাব পৃথকভাবে ঘটনাটির ছায়া তদন্ত করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

তিনটি তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে শেরপুর সদর থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাকিবের মৃত্যু রহস্য উদঘাটিত না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিকভাবে এসব তদন্ত কমিটি কাজ করবে। এছাড়া সিআইডি, র‌্যাব ও পুলিশের বিভিন্ন সংস্থা পৃথকভাবে ঘটনাটির ছায়া তদন্ত করছে।

এদিকে পুলিশ কনস্টেবল রাকিবুলের লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ লাইন সংলগ্ন ঘটনাস্থলের পাশ্ববর্তী পূর্বশেরি এলাকার বাসিন্দা শহরের বহুল আলোচিত ‘নীলার মা’ নামে পরিচিত মিনু বেগমকে সদর থানায় নিয়ে গেলেও তাকে আটক কিংবা গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করেনি পুলিশ।  

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, তদন্তে কাজে সহায়তার জন্য তাকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  

এ প্রসঙ্গে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জেলা হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মো. আব্দুল মোবারক জানিয়েছেন, লোহার শাবল বা এ জাতীয় কিছু ভারী লৌহদন্ডের আঘাতে পুলিশ কনস্টেবল রাকিবুলের মৃত্যু হয়েছে। আঘাতে মাথার খুলি ভেঙ্গে গেছে। পায়ের উরুর হাড় ভেঙ্গে কেটে গেছে।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অনেকগুলো বিষয় আমলে নিয়ে কনস্টেবল রাকিবুলের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কাজ এগিয়ে চলছে। আশা করছি, শীঘ্রই রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হবে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুরে কনস্টেবল রাকিবের লাশ নিজ এলাকা টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলার শৈলকুড়িয়া গ্রামে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে গতকাল সোমবার রাতে শেরপুর পুলিশ লাইন মাঠে তাঁর প্রথম নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পুলিশ সুপার মেহেদুল করিমসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার সকাল ৭টায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিকট থেকে সংবাদ পেয়ে পুলিশ লাইনের প্রায় ২০০ গজ দূরে পূর্বশেরি এলাকার একটি রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক টাওয়ারের নীচ থেকে কনস্টেবল রাকিবুল হাসানের (২০) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। গত বছরের ১২ নভেম্বর পুলিশ বাহিনীতে তিনি যোগদানের পর থেকেই শেরপুর পুলিশ লাইনে কর্মরত ছিলেন। তার কনস্টেবল নং-২২৭।  


মন্তব্য