kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এলজিইডির প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

কমিশন না পেলে হয়রানি!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৪৮



কমিশন না পেলে হয়রানি!

কমিশন না পেলে নানা অজুহাতে ঠিকাদারদেরকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তিনি লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী।

বিষয়টি ওই কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবগত করেও কোন সুফল আসেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।  

এলজিইডির কয়েকজন ঠিকাদারের ভাষ্যমতে, ওই কার্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের দরপত্র দাখিলের পর তুলনামূলক বিবরণ (সিএস) দেওয়ার সময় শতকরা ৫ টাকা হারে ঘুষ দিতে হয় সাইফুল ইসলামকে। তিনি ঠিকাদারী কাজের তদারকির সময় ২% হারে টাকা আদায় করেন। অনেকের কাছ থেকে নিম্নমান কাজের অভিযোগ দেখিয়ে ৫% টাকা আদায় করা হয়। কাজের মান ভাল হলেও তাকে শতকরা ২ ভাগ টাকা দিতে হয়।

অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রে অংশ নেওয়া ঠিকাদারদের মধ্যে যারা কাজ পান না, তারা ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ না দিলে তাদের পে-অর্ডার মাসের পর মাস আটকে রাখা হয়।

সূত্র জানায়, গত মার্চ মাসে আসবাবপত্র সরবরাহের জন্য ১ কোটি ২১ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এর মধ্যে তানিন ফার্নিচার সর্বনিম্ম দরদাতা হলেও বেঙ্গল ফার্নিচারের নামের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কাজ পাইয়ে দেন তিনি। এ বিষয়টি তানিন ফার্নিচারের পক্ষে বিক্রয় কর্মকর্তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ করলে তদন্তে দরপত্রে অনিয়মের সত্যতা পায় সংশ্লিষ্টরা।

ঠিকাদার বেলাল হোসেন জানান, এলজিইডি অফিসে ঘুষ ছাড়া কোন কাজই হয়। তার মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী  সাইফুলের কলকাঠিতেই এসব নিয়ন্ত্রণ করা হয়। প্রত্যেক কাজের বিপরীতে ২ থেকে ৫ শতাংশ হারে টাকা পরিশোধ করতে হয়। চাহিদামত টাকা না দিলে নিম্মমানের কাজের অযুহাত এনে নোটিশ করা হয়। পরে চাহিদা মিটিয়ে দিলে কাজের সব বিল পাওয়া যায়। প্রকৌশলী সাইফুলের বিরুদ্ধে একাধিকবার নির্বাহী প্রকৌশলীকে অভিযোগ করেও কোন সুফল আসেনি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, তিনি কোন অনিয়মর সঙ্গে জড়িত নয়। যেসব ঠিকাদারের স্বার্থে ব্যঘাত ঘটেছে, তারাই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।  

একই সঙ্গে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।


মন্তব্য