kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চার জেলায় বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:১৯



চার জেলায় বজ্রপাতে সাতজনের মৃত্যু

দেশের পৃথক স্থানে বজ্রপাতের ঘটনায় আজ সোমবার সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন নয়জন।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন দুজন জেলে, তিনজন কৃষক, একজন দিনমজুর ও একজন স্কুলছাত্র। বজ্রপাতের ঘটনাগুলো ঘটেছে কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, গাইবান্ধা ও বগুড়ায়।

কিশোরগঞ্জ:
কিশোরগঞ্জ সদর ও হাওর উপজেলা নিকলীতে পৃথক বজ্রপাতে দুই জেলেসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরো দুই জেলে। আজ সোমবার দুপুরের দিকে বজ্রপাতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নিকলী উপজেলার জারইতলা ইউনিয়নের সাজনপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে নূরুল ইসলাম (২০), মৃত সুনাম উদ্দিনের ছেলে রুস্তম আলী (৩৬) ‌এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামের মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন। আহতরা হলেন সাজনপুর গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে মোকারম হোসেন (২২) ও ওসমানের ছেলে আসাদ মিয়া (৩০)। তাদেরকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, দুপুরে নিকলীর ছাতিরচর হাওরে মাছ ধরছিলেন স্থানীয় চার জেলে। এ সময় তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হন চার জেলে। তাদেরকে বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নূরুল ইসলাম ও রুস্তম আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে একই দিন দুপুরের দিকে বাড়ির পাশে জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে মারা যান যশোদল কাটাখাল গ্রামের কৃষক নিজাম উদ্দিন। কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন ও নিকলী থানার ওসি মুঈদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

হবিগঞ্জ: 
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সাকুয়া ও দুর্গাপুর গ্রামে বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন জাবেদ মিয়া (২৫) ও কৃষ্ণ গোপাল দাস (৪০)। দুজনই পেশায় কৃষক। অপর এক বজ্রপাতের ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকেলে এসব ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামের পাশে হাওরে কৃষিকাজ করছিলেন জাবেদ মিয়া (২৫)। এ সময় বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ওই গ্রামের ইছারুল হকের ছেলে।

একই সময়ে উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের কৃষ্ণ গোপাল দাস বৃষ্টি দেখে গ্রামের মাঠে গরু আনতে যান। এ সময় বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়। কৃষ্ণ গোপাল দাসের বাবার নাম হরিচরণ দাস।

পাশাপাশি একই উপজেলার কানাইপুর গ্রামে হাওরে মাছ ধরা অবস্থায় বজ্রপাতের আঘাতে এতিম আলী (৩৫) ও অজ্ঞাতনামা (৩৭) এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে এতিম আলীকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।  

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন খান জানান, বজ্রপাতে নিহত দুজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

গাইবান্ধা: 
গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ি ইউনিয়নের কাবিলের বাজার গ্রামে বজ্রপাতে আরিফ মিয়া (১০) নামের এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আরিফ মিয়া ওই গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে। সে স্থানীয় সোনার বাংলা ব্র্যাক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

মালিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আলী আজম শাহ বলেন, সোমবার বিকেলে আরিফ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশে খেলা করছিল। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় সে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় সে।  

বজ্রপাতে আরিফের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বগুড়া:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বজ্রপাতে তবিবর রহমান (৫৫) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের প্রথমারছেও গ্রামের মাঠে আমন খেতে ঘাস নিড়ানির কাজ করতে গেলে বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়। নিহত তবিবর রহমান প্রথমারছেও গ্রামের বাসিন্দা।

এ ব্যাপারে গাবতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদ মাহমুদ বলেন, প্রথমারছেও গ্রামের একজন কৃষকের আমন খেতে ঘাস নিড়ানির কাজ করতে যান তবিবর রহমানসহ কয়েকজন দিনমজুর। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে তাঁরা পাশের শ্যালোমেশিন ঘরে আশ্রয় নেন। এ সময় বজ্রপাতে তবিবর রহমান ছাড়াও দিনমজুর মিলন মিয়া (৩৮), এরশাদ হোসেন (৩২), লিটন মিয়া (৩০), আজিবর রহমান (৫০) এবং লুৎফর রহমান (৫৪) আহত হন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে তবিবর রহমান এবং লিটন মিয়াকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গাবতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তবিবর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন।


মন্তব্য