kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লালমোহনে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারিদের বাদ দিয়ে পুলিশের চার্জশীট

সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ, বিচার দাবি

ভোলা প্রতিনিধি   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৪০



লালমোহনে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারিদের বাদ দিয়ে পুলিশের চার্জশীট

ভোলার লালমোহনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সময় ছবি তোলাসহ পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও ক্যামেরা ছিনতাই ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূল আসামিদের বাদ দিয়ে চার্জশিট দিয়েছে লালমোহন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা। গতকাল রবিবার আদালতে দাখিল করা চার্জশিটের ওপর নারাজি দিয়েছে বাদীপক্ষ।

পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা ঘটলেও পুলিশের এমন নেক্কারজনক কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ জানিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন ভোলায় কর্মরত সাংবাদিকরা।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ রাতে লালমোহন সদর রোডে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোকলেসুর রহমানের মালিকানাধীন মিয়া প্লাজা মার্কেটের দোকানপাট ভাঙচুর ও তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার সময় ওই সড়ক দিয়ে মাইক্রোবাসযোগে ভোলায় ফিরছিলেন সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় চোরাই তেলের ব্যবসায়ী কালা শাজাহান ও মেহের বাহিনীর তাণ্ডবের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ওই বাহিনী। এ সময় আরটিভির ক্যামেরাপার্সন ইউছুফকে হকস্টিক, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথারি পিটিয়ে গুরুতর আহত করে তারা। পরে তাকে মৃত ভেবে মাটিতে ফেলে রাখে তার ক্যামেরা, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একই সঙ্গে পিস্তল ও সর্টগান নিয়ে অন্যান্য সাংবাদিকদের তাড়া করে তারা। প্রকাশ্যে এমন ঘটনায় ভয়ে সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে পারেননি স্থানীয়রা। এমনকি লালমোহন থানার ওসির সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ ছিল নিরব দর্শকের ভূমিকায়। এ ঘটনায় আহত ইউছুফকে প্রায় মৃত অবস্থায় প্রথমে লালমোহন হাসপাতালে এবং পরে ওই রাতেই তাকে ভোলা হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এমনকি লালমোহন হাসপাতালেও চড়াও হয় সন্ত্রাসীরা। এসব ঘটনায় বর্তমান ডিবির ওসি তৎকালীন লালমোহন থানার ওসি আখতাররুজ্জামান মামলা নিতেও গড়িমশি করেন। পরে অবশ্য তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাঃ মনিরুজ্জামানের নির্দেশে পুলিশ মামলা নেয়।  

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লালমোহন থানা পুলিশ মামলার মূল আসামি চোরাই তেলের ব্যবসায়ী  মোঃ শাহাজাহান ও তার ছেলে রাকিব হোসেন সোহেল, মৌমাছি বাহিনীর কমান্ডার ফরাদ হোসেন মেহের, ওই বাহিনীর সদস্য জামাল উদ্দিন বেল্লাল, মোঃ ফরিদ, জোবায়ের, এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী আমিনুল ইসলাম, আকবরের নাম বাদ রেখে শুধুমাত্র কামাল কসাইয়ের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। পুলিশের এমন নেক্কারজনক ভূমিকায় হতবাক হন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।  

অভিযোগ এও জানা গেছে, ওই সন্ত্রাসীদের কাছে লালমোহন থানা পুলিশ জিম্মি হয়ে রয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী ইউছুফ জানান, রবিবার আদালতে দাখিল করা চার্জশিটের ওপর তিনি নারাজি দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে লালমোহন থানার বর্তমান ওসি হামায়ুন কবির জানান, ঘটনা সত্য জেনেও তাদের হাত-পা বাধা থাকায় এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।

এ ব্যাপারে বর্তমান ভোলা জেলা গোয়েন্দা শাখা ( ডিবি) ওসি আখতারুজ্জামান জানান, ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনিও অপারগ। কেননা তিনি ওই থানার ওসি ছিলেন।  

এদিকে স্থানীয়রা জানান, বিএনপি আমলের এসব সন্ত্রাসীরা হালে সরকার দলের নেতাদের প্রভাবেই ত্রাস করে বেড়াচ্ছে।
 


মন্তব্য