kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতারক সিন্ডিকেটের পকেট ভারি

রামগঞ্জে বিদ্যুৎ বিতরণের নামে বাণিজ্য!

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:০৮



রামগঞ্জে বিদ্যুৎ বিতরণের নামে বাণিজ্য!

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতা এবং বিদ্যুৎ  বিভাগের কর্মচারীরা সিন্ডিকেট করে বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অন্তত পাঁচ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে প্রতারণার শিকার লোকজন। তবে স্থানীয় এমপি বলছেন, টাকা উত্তোলনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়নের ইছাপুর, দক্ষিণ শ্রীরামপুর, নারায়ণপুর, উত্তর শ্রীরামপুর, নয়নপুর, নুনিয়াপাড়া, শিবপুর এবং সান্দানপুর গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। লক্ষ্মীপুর ১ (রামগঞ্জ) আসনের এমপি লায়ন এম এ আউয়ালের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল ওইসব এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে মতলববাজদের সিন্ডিকেট ওই গ্রামগুলো থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের নামে অন্তত  ৮০০ গ্রাহকের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলন করেছে।

বিদ্যুৎ প্রত্যাশীদের অভিযোগ, ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ সবুজ, মো. লিটন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নূর মোহাম্মদ খাঁন, লোকমান হোসেন লোকা, যুবলীগ নেতা নূর হোসেন পাল ও এমরান হোসেন, মিলন পাটোয়ারী, সাইফুল এবং রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পিওসি আনোয়ার হোসেন মিঝি বিদ্যুৎ সংযোগ সরবরাহের নামে তাদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলন করেছেন। প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি থেকে সাত হাজার টাকা করে হাতিয়ে পকেট ভারি করেছেন।

দক্ষিণ শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম চৌকিদার বাড়ি থেকে সাত, বশির চেরাং বাড়ি থেকে ছয়, রায় ছাড়া বাড়ি থেকে তিন, লোচার বাড়ি দুই, ছাড়া বাড়ি আট, মনু পাটোয়ারী বাড়ি থেকে চারটিসহ ৩০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে জনপ্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে উত্তোলন করেছেন। এ ছাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ৩৮টি সংযোগের জন্য লোকজনের কাছ থেকে এক লাখ ৯ হাজার টাকা নেন। মুনসুর আলী বেপারী বাড়িতে ১৬ পরিবারের জন্য ৮৮ হাজার, দৌলুত বাড়ি থেকে ১২ পরিবারের ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

দক্ষিণ শ্রীরামপুর এলাকার ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম বলেন, "চেয়ারম্যানের নির্দেশে টাকা উত্তোলন করেছি। কিছু খরচাপাতি সব জায়গাতেই লাগে। বিদ্যুৎ অফিসেও কিছু দিতে হয়েছে। নিজের জন্য কিছু নেইনি। " নয়নপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন, "সরকার প্রতিঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা থাকলেও ইছাপুরে তা হয়নি। এজন্য গ্রাহকের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা করে নিয়েছি। এই টাকা আমি একা ভোগ করিনি। লক্ষ্মীপুর ও রামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে খরচ দিতে হয়েছে। "

রামগঞ্জ উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের পিওসি আনোয়ার হোসেন মিঝি জানান, বিদ্যুতের জন্য টাকা উত্তোলন বা ভাগবাটোয়ারার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে, এ ঘটনার সঙ্গে লক্ষ্মীপুর জিএম অফিসের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন। ইছাপুর ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্যা বলেন, ইউনিনের অধিকাংশ এলাকায়ই বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ আনার জন্য এমপি আন্তরিকভাবে চেষ্টো  করছেন। টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর ১ (রামগঞ্জ) আসনের এমপি লায়ন এম এ আউয়াল বলেন, "টাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমি শুনেছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ওই গ্রামগুলোতে সার্ভে হয়েছে। চলতি অর্থবছরেই বিদ্যুৎ  সংযোগ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 


মন্তব্য