kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মেলান্দহে কৃষকের মরণ ফাঁদ বলিদাখালের ভাঙা ব্রিজ

জামালপুর প্রতিনিধি    

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:৫৪



মেলান্দহে কৃষকের মরণ ফাঁদ বলিদাখালের ভাঙা ব্রিজ

জামালপুরের মেলান্দহের কুলিয়া ইউনিয়নের বলিদাখাল আর ভাঙা ব্রিজটি ১৫টি গ্রামের কৃষকদের মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। দুই বছর আগে বন্যার পানিতে বলিদাখালের ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কৃষকসহ ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

ব্রিজটি সংস্কারের জন্য আজো কেউ এগিয়ে আসেনি।

মেলান্দহের কুলিয়া ইউনিয়নের সাদিপাটি গ্রামের সমাজ সেবক আব্দুল বারিক খান জানান, মেলান্দহের কুলিয়া, সাদিপাটি, দ্বিতীয় সাদিপাটি, বল্লবপুর, তারাকান্দি, টনকি, পুলগি, সিড়িঘাট, তেঘরিয়া, চিনিতোলা, ভালুকা, পীরগাছা, জাফরশাহী এবং দক্ষিণ পচাবহলা গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ বলিদাখালের ব্রিজ পার হয়ে যাতায়াত করেন। এ পথে চলতে গিয়ে অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে দুই বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ পার হতে হচ্ছে।
একই গ্রামের বিল্লাল মোল্লা জানান, তারা স্থানীয় উদ্যোগে ভাঙা ব্রিজটির এক মাথায় একটা বাঁশের সাঁকো বানিয়ে কোনোরকমে মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন। এ বছরের বন্যায় বাঁশের সাঁকোটিও ভেঙে নড়বড়ে হয়ে গেছে। চেয়ারম্যান মেম্বারসহ সরকারি লোকজন আজো ব্রিজটি মেরামতের ব্যবস্থা নেননি।  

টনকী জোবায়দা জব্বার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মতিউর রহমান জানান, সাদিপাটি গ্রামে প্রায় চার হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত অতি কষ্টে বলিদাখালের ভাঙা ব্রিজ পারাপার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে এ গ্রামের দুই শতাধিক শিশু শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা ভাঙা ব্রিজের ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কারণ ইতিপূর্বে কয়েকজন শিশু ওই ব্রিজ পার হতে গিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়। এরপর থেকে শিশুরা ওই ভাঙা ব্রিজ পার হতে ভয় পায়। তাই অভিভাবকদের প্রতিদিন সকালে তাদের শিশুদের হাত ধরে ভাঙা ব্রিজ পার করে স্কুলে পাঠাতে হয়। আবার বিকেলে ওই শিশুদের হাত ধরেই ভাঙা ব্রিজ পার করে বাড়িতে আনতে হয়। তাই জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কুলিয়া ইউনিয়নের বল্লবপুর এলাকার ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়া জানান, বলিদাখালের ভাঙা ব্রিজটির ওপর দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারে না। তাই ১৫টি গ্রামের কৃষকদের উৎপাদিত ফসল হাট-বাজারে নিতে খুবই কষ্ট হয়। অনেকেই ভাঙা ব্রিজ পারাপারে দুর্ভোগ এড়াতে গিয়ে নিজ বাড়িতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছে সস্তা মূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রি করে লোকসানের মুখে পড়েছেন।

মেলান্দহের কুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম জানান, জামালপুরের এলজিইডি'র তত্ত্বাবধানে মেলান্দহ এলজিইডি কর্তৃপক্ষ ১৯৯০ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করেছিলেন। দুই বছর আগে ব্রিজটি বন্যায় ভেঙে পড়েছে। এতে ভাঙা ব্রিজ ও বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকি নিয়ে পারপার হতে সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১৫টি গ্রামের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। ভুক্তভোগীরা ইতিপূর্বে ব্রিজটি সংস্কারের জন্য বহুবার দাবি জানালেও কেউ কোনো  উদ্যোগ নেয়নি। তাই তিনি সম্প্রতি ব্রিজটি পুনঃমেরামতের জন্য এলজিইডি'র সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় এমপি বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজমের নিকট আবেদন জানিয়েছেন বলে জানান।

মেলান্দহ উপজেলা প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, কুলিয়া ইউনিয়নের বলিদাখালের ওপর ভাঙা ব্রিজটি মেরামতের জন্য জামালপুর এলজিইডি'র সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 


মন্তব্য