kalerkantho


রৌমারী-রাজীবপুর-জামালপুর সড়ক

১৭ কিলোমিটার পাড়ি দিতে দেড় ঘণ্টা!

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)    

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৯:৪১



১৭ কিলোমিটার পাড়ি দিতে দেড় ঘণ্টা!

কুড়িগ্রামের রৌমারী-রাজীবপুর-জামালপুর সংযোগ সড়কের (রৌমারী-ঢাকা রুট) ১৭ কিলোমিটারজুড়েই খানাখন্দকে ভরা। বৃষ্টি হলেই সড়কজুড়ে পানি জমে।

অনেক আগেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়া সড়কটির বর্তমান অবস্থান আরো করুণ হয়ে পড়েছে। মাত্র ১৭ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় ব্যয় হয়। সড়কের দূরাবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।

কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) অধীনে রৌমারী রাজীবপুর সড়কের এ বেহাল দশার চিত্র প্রায় এক বছর ধরে। অপ্রশস্ত আর ভাঙাচোরা সড়কটিতে একটি যানবাহন অপরটিকে অতিক্রম করতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। প্রায়ই বাস-ট্রাক গর্তে আটকে যায় নয়তো উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একবার ওই ঘটনা ঘটলে চার-পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত সবধরনের যান চলাচল বন্ধ থাকে। সওজ'র নির্বাহী প্রকৌশলী অবশ্য বলেছেন দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত, জোড়াতালি আর খানাখন্দ।

সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে নৌকা যেমন হেলে-দুলে চলে তেমনি যানবাহনগুলোর অবস্থা দেখা যায়। সড়কের বেহাল অবস্থায় সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিসিআইসি অনুমোদিত রাজীবপুরের সার ডিলার সিরাজদ্দৌলা বলেন, "এ রাস্তা এত খারাপের খারাপ যে একবার যে ট্রাক ঢোকে দ্বিতীয়বার ওই ট্রাককে কোনোভাবেই আনা যায় না। " তারা মিয়া নামের এক অটোচালক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমগর আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী নাই, তাই আমগর আস্তাও ভালো অয় না। " রৌমরীর রিফাত পরিবহনের চালক আসলাম আলী (৩৮) বলেন, "জামালপুর থেকে কুড়িগ্রামের অংশে প্রবেশ করা মানে মৃত্যুকে সঙ্গে নিয়ে চলতে হয়। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ-এ আসি এক ঘণ্টায়। আর ১৭ কিলোমিটার যেতে সময় লাগে দেড় ঘণ্টারও বেশি। "  

স্থানীয় সংসদ সদস্য (কুড়িগ্রাম ৪ আসন, জাতীয় পার্টি-জেপি) রুহুল আমিন বলেন, "এ সড়কের কাহিল অবস্থার কথা জাতীয় সংসদে ওঠানো হয়েছে। যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রীর কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে। " "বর্তমানে রৌমারী সীমান্তের স্থলবন্দরে ভারত থেকে প্রচুর পাথর নামছে। এসব পাথর ট্রাকে চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। তাছাড়া করিডোর দিয়ে প্রতিদিন অসখ্য গরু তো রয়েছেই। প্রতিদিন অন্তত  ১০০ ট্রাক চলাচল করছে"- বলছিলেন আমদানি-রপ্তানিকারক জাইদুল ইসলাম।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান জানান, চলতি অর্থ বছরে ওই সড়ক সংস্কারে প্রায় ২২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সাত কিলোমিটার সংস্কারের কাজ শেষ পর্যায়ে। অপর প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান সকল কার্যক্রম শেষ করে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। এখন দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। "

 


মন্তব্য