kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হিমছড়ি জাতীয় উদ্যান

দখল করা দোকানঘর উচ্ছেদ অভিযানে ভূমিদস্যুদের বাঁধা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৯



দখল করা দোকানঘর উচ্ছেদ অভিযানে ভূমিদস্যুদের বাঁধা

কক্সবাজারের রামুর হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানে বনবিভাগের উচ্ছেদ অভিযানে বাঁধা দিয়েছে অস্ত্রধারী ভুমিদস্যুরা। আজ রবিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে ৫ বনকর্মী পালিয়ে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। পরে র‌্যাব গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। ভুমিদস্যুরা বন কর্মীদের উচ্ছেদ করা দুইটি ট্রাক ভর্তি মালামাল লুঠ করে নিয়ে গেছে।

অপরদিকে উচ্ছেদের পর আয়োজিত তাৎক্ষণিক এক প্রতিবাদ সমাবেশ করে বনকর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন বন বিভাগের জমি জবরদখলকারি লোকজন। সমাবেশে স্থানীয় এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলও বক্তব্য রাখেন। তিনি বন বিভাগের উচ্ছেদ কার্যক্রমের জোর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমার অনুমতি ছাড়া বন বিভাগ এ রকম উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়ে অন্যায় করেছে। এ এলাকায় লোকজন দোকান-পাট যথারীতি আবারো নির্মাণ করবে। তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে এলাকার পর্যটন শিল্পই সমৃদ্ধ হয়েছে। ’

এ বিষয়ে কক্সবাজারের দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ আলী কবির কালের কণ্ঠকে জানান, রামু উপজেলার হিমছড়ি জাতীয় উদ্যানের বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি ঈদুল আজহার ছুটির সময় স্থানীয় ভুমিদস্যুরা জবর দখল করে। তারা সেখানে ১৩টি অবৈধ দোকান পাটও নির্মাণ করে। এসব অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে আজ বিকেলে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোজাম্মেল হক রাসেলের নেতৃত্বে পুলিশ ও বনকর্মীদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট সহকারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করে ম্যাজিষ্ট্রেটসহ আমরা শহরে ফিরে আসি। আসার পথে এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল আমার গাড়ি থামিয়ে বলেন-আপনি আমার অনুমতি ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালাতে পারেন না। এজন্য আপনাকে পস্তাতে হবে। ’ 

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, ম্যাজিষ্ট্রেট সহ তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর সশস্ত্র ভূমিদস্যুরা সংঘবদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে আমাদের লোকজনদের ওপর চড়াও হয়। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ৫ জন বনকর্মী পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। ভূমিদস্যুরা পাহাড়ে জান বাঁচাতে আশ্রয় নেওয়া বনকর্মীদের ধরার জন্য তাদের পিছু নেয়। এ পর্যায়ে র‌্যাবকে খবর দিয়ে হতভাগা বনকর্মীদের উদ্ধার করা হয়।

এদিকে উচ্ছেদের পরপরই ওই স্থানে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশ করে দোকান মালিক সমিতি। এ প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজুল আলম, খুনিয়া পালং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদসহ অন্যান্যরা।  

হিমছড়ি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি স্থানীয় খুনিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ বলেন, ‘রামু উপজেলা পরিষদের সিদ্ধান্তে এখানে আমরা দোকান নির্মাণ করেছি। বনকর্মীদের দাবি করা অবৈধ টাকা না দেওয়ায় দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ এই দোকানগুলো পর্যটন শিল্পে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।  

অপরদিকে বন বিভাগের জমি উচ্ছেদে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদ নামের একটি পরিবশেবাদী সংগটন।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, সরকারি সম্পদ জবর দখল করা অন্যায়। তাই ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে।  


মন্তব্য