kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যমুনা সিটি পার্কের সংযোগ সড়ক মেরামত জরুরি

জামালপুর প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:৩৬



যমুনা সিটি পার্কের সংযোগ সড়ক মেরামত জরুরি

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার একমাত্র বিনোদন কেন্দ্র যমুনা সিটি পার্ক। এ পার্কের একমাত্র সংযোগ সড়কটি মেরামতের অভাবে ভ্রমণ পিপাসুদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে যাওয়ায় সড়কটি মেরামত অত্যান্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সরিষাবাড়ীর পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর পোগলদিঘায় যমুনার তীরে স্থানীয় একজন জ্ঞান পিপাসু ও সৌখিন ব্যক্তিত্ব সর্বসাধারণের বিনোদনের জন্য তার ব্যক্তিগত তিন একর জমিতে গড়ে তুলেছেন একটি মনোরম পার্ক। যার পূর্বে নাম নাম ছিল আবুল সরকারের বাগানবাড়ি। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিক্ষানুরাগী ও গবেষক সরকার আবুল হোসেন মানুষের উৎসাহ ও শখের বশে যমুনা নদীর পাড়ে তৈরি করেন পার্কটি। ওই বাগান বাড়িটি সর্বসাধারণের বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে উন্মুক্ত করার সময় নাম রাখা হয় যমুনা গার্ডেন সিটি। পরে এটির নাম দেওয়া হয়েছে যমুনা সিটি পার্ক।
এখানে বিনোদনের জন্য প্রতিদিন ভিড় করেছেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু। এবারের ঈদের ছুটিতেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। সরকারি ছুটির দিন, সাপ্তাহিক বন্ধের দিন, বিভিন্ন উৎসব ও দিবসে এখানে থাকে হাজার হাজার দর্শকের পদচারণা। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এখানে শিক্ষা সফরে আসে। এ ছাড়াও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ প্রতিদিনই এখানে ভ্রমণে আসছেন। তবে ওই পার্কের সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দর্শনার্থী যাতায়াতের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।  

অনেকেই অভিযোগ করেছেন, এখানে যাতায়াতের ব্যয়ভার সাধারণ দর্শনার্থীদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই অনেকেই বলেছেন, যমুনা সিটি পার্কের একমাত্র সংযোগ সড়কটি অতি সম্প্রতি পুন:সংস্কার না হলে মনোরম পরিবেশের এ পার্কটিতে দর্শনার্থীদের যাতায়াত এক পর্যায়ে বন্ধ হয়ে যাবে।

সিরাজগঞ্জের ভুঞাপুর থেকে গতকাল শনিবার সকালে আফসার আলী নামের একজন সরকারী কর্মচারী তার পরিবারের ৭ সদস্যকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন যমুনা সিটি পার্কে। তিনি বলেন, ঈদের লম্বা ছুটি থাকায় বিনোদনের জন্য তিনি ঘুরতে এসেছেন বাচ্চা-কাচ্চাসহ। পার্কের সংযোগ সড়কের উন্নয়ন করে যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হলে বিনোদনের এমন স্পট ঘুরে বেড়ালে কর্মজীবি মানুষের ক্লান্তি হ্রাস ও শিশুদের মেধার বিকাশ ঘটবে। ১০ বছর বয়সী তার মেয়ে আফসানা জানায়, শিশুপার্কে ঘুরে বেশ মজা পেয়েছি। তাই বন্ধুদের কাছে এই অভিজ্ঞতার গল্প করব। একই দিন টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি থেকে ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন খান আসেন নতুন বিবাহিতা স্ত্রীকে নিয়ে। তার মতে, নবদম্পতির বিনোদনের জন্য যমুনা সিটি পার্ক অত্যান্ত উপযুক্ত স্থান। তিনি আরো বলেন, এখানে ঘুরতে এসে পার্কের লাইলি মজনু চত্বর, অচিনপুরী, মনিপুরী ঘর ও সপ্নীল জলডাঙ্গা সেতু পরিদর্শন ও ময়ূরপক্সখী প্যাডেল বোট নিয়ে পানিতে চলাকালে মনে হয়েছে যেন কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে গিয়েছিলাম সিনেমার জগতে।

পার্কটি ঘুরে আরও দেখা গেছে, যমুনা সিটি পার্কে রয়েছে সুবিশাল পিকনিক স্পট, শুটিং স্পট, শিশুপার্ক ও ইতিহাস এ্যালবাম। সভা-সেমিনারের জন্য রয়েছে উন্মুক্ত অডিটোরিয়াম। শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে মিনি ট্রেন, মিনি হেলিকপ্টার, কিডিমেরি গ্রাউন্ড ও ফ্লাওয়ার কার্প। বড়দের জন্য রয়েছে হানিসুইং, ময়ূরপক্সখী প্যাডেল বোট, শান্তির নীড়, অচিনপুরী ও মনিপুরী ঘর, থ্রিডিমুভি, পানির ফোয়ারা, সপ্নীল জলডাঙ্গা সেতু, লাইলি মজনু চত্বর। এ ছাড়াও রয়েছে টারকি ময়ূর, খরগোস, রকিং হর্স, এক পায়ের মোরগ-মুরগি, চায়না মোরগ-মুরগি, গাধাসহ দেশি-বিদেশী বিভিন্ন প্রকার পশু-পাখি ও ভাস্কর্য, বাহারী ফুল, ফল, বনজ ও ঔষধি গাছ।

যমুনা সিটি পার্কের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবসায়ী সরকার আবুল হোসেন একজন কলামনিস্ট ও শিক্ষা বিষয়ক গবেষক। তিনিই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার উদ্ভাবক। তিনি জানান, এ এলাকায় বিনোদনের জন্য কোন উপযুক্ত স্থান ছিল না। মানুষকে বিনোদনের প্রতি আগ্রহ ও ইতিহাস চর্চা এবং শিশুদের মেধা বিকাশের জন্য এটি গড়ে তোলা হয়েছে।  

সরকার আবুল হোসেন বলেন, শুধু বিনোদন নয়, বাংলাদেশের ইতিবৃত্ত স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রচার ও গবেষণা চালাতেও পার্কটি উপযুক্ত স্থান।

পার্কের ব্যবস্থাপক মুক্তিযোদ্ধা কলিম উদ্দিন মাস্টার বলেন, যমুনা সিটি পার্কে জনপ্রতি প্রবেশমূল্য মাত্র ৩০ টাকা। এখানে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই বেড়াতে আসেন। অনেক মানুষের ভিড় হলেও যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি ভাঙাচোরা। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর রাস্তাটি মেরামত করলে পার্কটি শিশুদের মেধাবিকাশ ও এলাকার বিনোদন চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।


মন্তব্য