kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেরানীগঞ্জে যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৩০



কেরানীগঞ্জে যৌতুক না দেওয়ায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা

কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন ব্রাক্ষনকিত্তা এলাকায় যৌতুক না পেয়ে হোসনে আরা আক্তার শারমিন (৩২) নামে এক সন্তানের জননীকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের ওপর। আগুনে হোসনে আরার শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে।

গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হোসনে আরার শ্বশুর বাড়ির লোকজন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে আজ রবিবার তা ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনার পর স্বামী জুয়েলসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

হোসনে আরার ছোট ভাই মেহেদী হাসান জানান, যৌতুকের জন্য শ্বশুর বাড়ির লোকজন প্রায়ই তার বোন হোসনে আরাকে নির্যাতন করত। নির্যাতনের হাত থেকে বোনকে রক্ষায় তারা কয়েক দফায় কিছু টাকা-পয়সাও দিয়েছিলেন। সম্প্রতি আবারো ২ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তার বোনের ওপর ফের নির্যাতনের খড়গ নেমে আসে। এবার দাবিকৃত টাকা না দিতে পারায় গতকাল শনিবার সকালে হোসনে আরার স্বামী জুয়েল, শ্বাশুড়ি জরিনা বেগম, ভাসুর (জামাইর বড় ভাই) হারুন, হারুনের স্ত্রী মাহফুজা, হারুনের মেয়ে সুমাইয়া ও তার স্বামী রাজু মিলে তাকে বেদম মারধর করেন। খবর পেয়ে তার মা মোমেনা বেগম দেখা করতে গেলে নির্যাতনকারীরা তাকেও মারধর করে তাড়িয়ে দেন। এরপর বেলা ১২টার দিকে বাড়ির আঙ্গিনায় হোসনে আরা গৃহপালিত ছাগলকে পানি খাওয়াতে ছিলেন তখন পিছন থেকে তার শরীরে কেরোসিন তেল ছুড়ে মারে তার স্বামী জুয়েল। হোসনে আরা তখন জুয়েলকে জিজ্ঞাসা করেন আমার গায়ে কেরোসিন ছুড়ে মারলেন কেন? জুয়েল তার বোনের কাছে এসে এবার সামনে থেকে কেরোসিন তেল ছুড়ে দিয়াশলাইয়ের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। তার ডাকচিৎকারে আশপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে আমার মাকে ফোন করে। খবর পেয়ে আবারো মা তাদের বাড়িতে গেলে সুমাইয়ার স্বামী রাজু তাকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা প্রদান করে। পরে আমার মা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর পূর্বে ব্রাক্ষনকিত্তা এলাকার বাসিন্দা জুয়েলের সঙ্গে পারিবারকিভাবে বিয়ে হয় হোসনে আরার। বিয়ের সময় জুয়েলকে যৌতুক হিসেবে নগদ টাকা ও আসবাবপত্র দেওয়া হয়। তাদের সংসার জীবনে সিনিয়া আক্তার দিয়া নামে ১১ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি ২ লাখ টাকা না দিলে অন্যত্রে বিয়ে করবে বলে জুয়েল ও তার পরিবারের লোকজন সাফ জানিয়ে দেয় হোসনে আারাকে।

হোসেনে আরার মা মোমেনা বেগম বলেন, ‘ওরা সবাই মিলে আমার মেয়েকে মারতো। মেয়ে মুখ বুজে সব সহ্য করেছে। শনিবার সকালে একবার মারলে আমি খবর পেয়ে মেয়েকে দেখতে যাই। পাষণ্ডরা আমাকেও মারধর করে তাড়িয়ে দেয়। পরে শুনি মেয়েকে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি এই বর্বরতার বিচার চাই।  

তিনি অভিযোগ করেন, যৌতুক না দেওয়ায় হোসনে আরাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে জুয়েল ও তার পরিবারের লোকজন। ’

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন হোসনে আরার শরীরের ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে। তার শাররীক অবস্থা সংকটাপন্ন।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি ফেরদাউস হোসেন বলেন, ঘটনাটি শনিবার ঘটলেও আমরা জানতে পারিনি। রবিবার দুপুরে বিষয়টি আমাদের নজরে আসার সাথে সাথে আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য কয়েক স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে কাউকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। এ বিষয়ে ভিকটিমের মা মোমেনা বেগম বাদী হয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  


মন্তব্য