kalerkantho


টাঙ্গুয়ার হাওরে জোৎস্না উৎসব

হাওরে পর্যটকদের ফেলে দেওয়া সংগ্রহে অভিযান

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫৯



হাওরে পর্যটকদের ফেলে দেওয়া সংগ্রহে অভিযান

গত শুক্রবার রাতে আন্তর্জাতিক রামসার সাইট ও জীববৈচিত্র্যের অনন্য জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওরে বিরল জোৎস্না স্নানে আসা দেশ-বিদেশের পর্যটকদের হাওরে ফেলা বর্জ্য পরিষ্কারে অভিযান চালিয়েছে আয়োজকরা। আজ রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত  দুটি নৌকায় করে জোৎস্না উদযাপন এলাকা ঔয়া-রূপাভূই বিলে এ অভিযান চালানো হয়।

এ সময় পর্যটকদের ফেলে দেওয়া পলিথিন, বোতলসহ পরিবেশ বিধ্বংসী নানা উপকরণ সংগ্রহ করে উপজেলা সদরে এনে তা ধ্বংস করা হয়।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গুয়ার হাওর ও তাহিরপুর উপজেলার অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্র করে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার দাবিতে গত ১৬-১৭ সেপ্টেম্বর জোৎস্না উৎসব উদযাপন করা হয়। বিনয়ী জোৎস্নার সঙ্গে ছিল ভাসমান মঞ্চে মরমি সুরের মুর্ছনা। প্রায় শতাধিক নৌকায় করে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা হাওর ঘুরে রাতে হাওরের গহীন বিল রৌয়া-রূপাভূই বিলে জোৎস্নাস্নান করেন। রাতব্যাপী হাওরে অবস্থান করার পর সকালে তারা তাহিরপুর উপজেলার নৈসর্গিক এলাকা সীমান্তবর্তী নদী যাদুকাটা ও বড়গোপটিলা পরিদর্শন করেন। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত আদিবাসী জনগোষ্ঠী তাদের সংস্কৃতি তুলে ধরে।

এদিকে, বিশাল পরিসরে জোৎস্না উদযাপনের কারণে কিছু অসচেতন পর্যটক নৌকায় বর্জ্য ফেলার ড্রাম থাকার পরও হাওরে প্লাস্টিক-পলিথিনসহ পরিবেশ ধ্বংসকারী কিছু উপকরণ ফেলে দেন বলে পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আয়োজক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রবিবার সকালে দুটি নৌকায় করে এসব বর্জ্য উদ্ধার করেন। পরে এগুলো নিরাপদ স্থানে এনে ধ্বংস করা হয়।

জোৎস্না উৎসবের আয়োজক তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, "উৎসবের আগে জেলা শহরে আমরা সংবাদ সম্মেলন করে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে কী করণীয়- তা আলোচনা করেছিলাম। আমরা প্রতিটি নৌকায় পর্যটকদের ময়লা ফেলার জন্য ড্রাম রেখেছিলাম। তারপরও কিছু অসচেতন পর্যটক পলিথিন বোতল হাওরে ফেলে দিয়েছেন। পরিবেশের সুদূরপ্রসারী চিন্তা করে আমরা আজ দুটি নৌকায় করে সেগুলো উদ্ধার করে ধ্বংস করেছি। " তিনি বলেন, "হাওরের পরিবেশ-প্রতিবেশ রক্ষা করেই ইকো ট্যুরিজম গড়ে তুলতে হবে। "


মন্তব্য