kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কোটালীপাড়ায় ধর্ষিত কিশোরীর আত্মহনন

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৭



কোটালীপাড়ায় ধর্ষিত কিশোরীর আত্মহনন

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চাচাতো ভাই কর্তৃক ধর্ষণের শিকার সীমা সরকার (১৫) নামে এক কিশোরী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাতে স্থানীয়রা ধর্ষক পলাশ সরকারকে (৪০) ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মাধব সরকার বাদী হয়ে কোটালীপাড়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় তার বড় ভাই লিটন সরকারকেও আসামি করা হয়েছে। আজ রবিবার দুপুরে পলাশ সরকারকে কোটালীপাড়া আমলি আদালতের হাজির করা হলে বিচারক বীনা দাস তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।  

নিহতের মা লিপীকা সরকার বলেন, "গত বুধবার পলাশ সরকার বাড়ির পাশে একটি মুরগি খামারের মধ্যে আমার মেয়েকে (সীমাকে) নিয়ে ধর্ষণ করে। স্থানীয়রা তাদের হাতে-নাতে ধরে ফেলে। পরের দিন বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি নিয়ে বাড়ির লোকজন পারিবারিকভাবে সালিসি বৈঠক করে। তখন মুরুব্বিরা পলাশ সরকারকে গালাগাল করে ও সীমা সরকারকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়া বাবদ আর্থিক জরিমানা করেন। তখন পলাশের বড় ভাই লিটন সরকার জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সালিসি বৈঠক থেকে চলে আসেন। "
 
নিহতের বৌদি ভক্তি সরকার বলেন, "গত শনিবার দুপুরে বিশ্বকর্মা পূজা ছিল।   বাড়ির সবাই পূজা করতে রাস্তায় গিয়েছিল। এ সুযোগে পলাশ সীমাদের ঘরে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে বাড়িতে লোকজন এসে পড়লে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন স্থানীয়রা তাকে তার মুরগির খামারে আটকে রাখে। এ সময় লোক-লজ্জ্বায় সীমা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেয়। গুরুতর অবস্থায় প্রথমে তাকে কোটালীপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাত ৮টার দিকে সময় সীমা মারা যায়। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যাতে আর কেউ এভাবে কোন নিরীহ মেয়েকে জীবন দিতে না হয়। "
 
স্থানীয় সাদুল্লাহপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শান্তি  রঞ্জন মল্লিক বলেন, "শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে। এ ধরনের কাজ করা পলাশের ঠিক হয়নি। এ ঘটনার জন্য তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। অন্য কেউ যেন এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে আর সাহস না পায়। "

অভিযুক্ত ধর্ষক পলাশ সরকার বলেন, "সীমার সঙ্গে তার প্রায় ৫-৬ মাস ধরে প্রেম ও শরীরিক সম্পর্ক চলে আসছে। এতদিন বিষয়টি গোপন ছিল। গত বুধবার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এ নিয়ে সালিসি বৈঠকে আমাকে ও সীমাকে অপমান করা হয়। এ ঘটনায় লোকলজ্জ্বায় সীমা তাদের ঘরে আত্মহত্যা করেছে। " গোপালগঞ্জ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমীনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "পলাশকে গ্রেপ্তার ও থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাকেও গ্রেপ্তার করা হবে। "  

 


মন্তব্য