kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুক্তিপণ দাবি

মেঘনায় ফের ট্রলারসহ ১৫ মাঝিকে অপহরণ

ভোলা প্রতিনিধি    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:০১



মেঘনায় ফের ট্রলারসহ ১৫ মাঝিকে অপহরণ

ভোলার মনপুরার মেঘনা নদীতে ফের জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে ট্রলারসহ ১৫ মাঝিকে অপহরণ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতরাত ২টার দিকে মাছ ধরার সময় জেলেদের ওপর হামলা ও অপহরণ করে হাতিয়ার জলদস্যু আলাউদ্দিন বাহিনী।

 

অপহৃত মাঝি ও ট্রলারটি ছাড়িয়ে আনতে জলদস্যু বাহিনীর প্রধান জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। বিষয়টি আড়তদার ও পরিবার সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জলদস্যুদের ধরতে হাতিয়া জোনের কোস্ট গার্ড অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে কোস্ট গার্ড সূত্র জানিয়েছে। সম্প্রতি ভোলার মেঘনায় ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধড়া পড়ায় ফের জলদস্যুদের হামলায় জেলেদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জলদস্যুদের হামলার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন। প্রতিনিয়ত জলদস্যুদের হামলার শিকার হচ্ছেন মনপুরার জেলেরা। আজ রবিবার দুপুরে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত অপহৃত মাঝি এবং ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

মনপুরার রামনেওয়াজ ঘাটের মৎস্য আড়তদার ও স্থানীয় আহত জেলে সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো সুজন, জামাল, আলাউদ্দিন, শাহ আলম, লোকমান, জাফর, সেলিম, ইলিয়াছ, জাহাঙ্গীর, শাহাবুদ্দিন এবং আ. হাই মাঝি বদনার চরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে জাল ফেলেন। এ সময় সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনী প্রধান আলাউদ্দিন, কৃষ্ণ, রুবেল এবং আরিফ বাহিনী জাগলার চর থেকে ট্রলার দিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও ছররা গুলি ছুড়ে জেলেদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। পরে জলদস্যুরা অস্ত্র দেখিয়ে হামলা চালিয়ে জেলেদের জিম্মি করে। পরে প্রতি ট্রলার থেকে একজন করে মাঝিকে অপহরণ করে মোট ১৫ জন মাঝিকে হাতিয়ার দিকে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায়। এদের মধ্যে ১১ জন অপহৃতের নাম পাওয়া গেছে। অপহৃত বাকি চারজনের নাম এখনো পাওয়া যায়নি।

আহত জেলে লোকমান জানান, জলদস্যুরা জেলেদের নৌকায় উঠে তাদের বেধড়ক মারধর করতে থাকে। তাদের নৌকা থেকে ১৬ হালি মাছ নিয়ে যায়। নগদ ৫০০  টাকা এবং তিনটি মোবাইল ফোন সেট নিয়ে যায়। আলাউদ্দিন মাঝির ট্রলারটিও নিয়ে যায় তারা। অপহৃত সব মাঝি মনপুরার বলে জানিয়েছেন আহত জেলে লোকমান।

স্থানীয় আড়তদার লিটন হাওলাদার ও টিটু ভূঁইয়া জানান, মেঘনায় মাছ ধরার সময়  হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনীর লোকজন জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে প্রতি ট্রলার থেকে একজন মাঝিকে অপহরণ করে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তারা জানান, প্রায়ই হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনী মনপুরার জেলেদের ওপর হামলা চালায়। জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে ছেড়ে দেয়। হাতিয়ার কোসটগার্ড একটু সোচ্চার হলে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা করার সাহস পেত না।

স্থানীয় আড়তদার ও জেলরা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, যেখানে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা চালায় সেখান থেকে কোস্ট গার্ডের ক্যাম্প মাত্র দেড় কিলোমিটার দূরে। কোস্ট গার্ড ইচ্ছে করলে এক ঘণ্টার মধ্যে জলদস্যুদের আটক করতে পারে।

এ ব্যাপারে হাতিয়া জোনের কোস্ট গার্ড প্রধান লে. কমান্ডার ওমর ফারুক বলেন, "আমরা জলদস্যুদের হামলার ঘটনা শোনার সাথে সাথে মেঘনায় অভিযান পরিচালনা করি। এখনো অপহৃত মাঝি ও ট্রলারটি উদ্ধার করতে আমরা মেঘনায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আমাদের কয়েটি দল ইতিমধ্যে মেঘনার বিভিন্ন চরে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে, এখনও অপহৃত জেলে ও ট্রলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। "

এ ব্যাপারে মনপুরা থানার ওসি মো. শাহীন খান বলেন, "আমি বিষয়টি শুনেছি। তবে কতজন মাঝিকে অপহরণ করা হয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনও পাইনি। আমি এ ব্যাপারে খোঁজ নিচ্ছি। "


মন্তব্য