kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিপর্যস্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি সার্ভিস

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫৬



বিপর্যস্ত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরি সার্ভিস

আবারও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার ফেরি সার্ভিস। পদ্মা নদীর গ্রাসে দফায় দফায় ভেঙে গেছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ও সংযোগ সড়কগুলো।

সর্বশেষ শনিবার রাতে তীব্র স্রোতে দৌলতদিয়ার ৪ নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চারটি ঘাটের মধ্যে এখন ১ ও ৩ নম্বর ঘাট দিয়ে কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩ নম্বর ঘাটটি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে ঈদ উদযাপনে শেষে কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। গত কয়েক দিন ধরে দৌলতদিয়ায় ৫-৬ কিলোমিটার যানজটের কারণে নদী পার হতে  হয়রানি ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। হাইপ্রোটেকশন এর নামে কোটি কোটি টাকা খরচ করেও পদ্মার স্রোতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) প্রকৌশল বিভাগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

রবিবার সকালে রাজবাড়ী জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা জানান, যদিও ফেরি ঘাটের সংযোগ রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের। তবে রক্ষণাবেক্ষনের দায়িত্ব বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের। যে সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে তা মেরামতের দায়িত্ব তারা নেবে না। ফেরিঘাট ভাঙন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ অথবা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।

বিআইডব্লিউটিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, স্রোতের কারণে নদী ভাঙন রোধে তাদের কোনও উদ্যোগই কাজে আসছে না। একদিকে ঘাট মেরামত করছে। পর মুহূর্তে স্রোতের তোড়ে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন কবলিত ফেরিঘাট সংযোগ রাস্তার তীরে জিও ব্যাগ ফেলছে। বিকাল নাগাদ চার নম্বর ঘাটটি চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অব্যাহত পদ্মার ভাঙনে দফায় দফায় ফেরিঘাট ভাঙা-গড়া নিয়ে সরকারের তিনটি বিভাগের সাথে মনঃতাত্ত্বিক বিরোধ চলছে। যে কারণে ভাঙনের পর দ্রুতগতিতে ঘাট মেরামত হয় না। রাস্তা ভাঙলে কোন বিভাগ তা ঠিক করবে তা ঠিক করতেই সময় চলে যায়। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে দৌলতদিয়ার চারটি ফেরিঘাটের মধ্যে সবগুলো কয়েক দফায় ভেঙেছে। বন্যা শুরুর পর থেকে  তীব্র স্রোতের কারণে ঘাট টিকিয়ে রাখা  দুরূহ হয়ে পড়ছে। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় পর ভাঙন কিছুটা রোধ করা গেলেও ভারত ফারাক্কার বাঁধ খুলে দেওয়ায় নতুন করে নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। এতেই সমস্যা আরও বেশি।

 


মন্তব্য