kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাগেরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আধুনিক পদ্ধতিতে কাকঁড়ার চাষ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫৩



বাগেরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আধুনিক পদ্ধতিতে কাকঁড়ার চাষ

দেশে ও আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁকড়ার চাহিদা বাড়ায় বাগেরহাটে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আধুনিক পদ্ধতিতে কাকঁড়ার চাষ। দেশের সাদা সোনা হিসাবে পরিচিতি চিংড়ির সাথে পাল্লা দিয়ে রফতানির তালিকায় ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে উপকূলীয় এলাকার জলজ প্রাণী কাঁকড়া।

লাভজনক ও মৃত্যুর ঝুকি না থাকায় কাঁকড়া চাষের দিকে ঝুঁকে পড়ছে চাষিরা।
সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় প্রদর্শনী কাঁকড়া খামার স্থাপন হওয়ায় অনেক চাষি চিংড়ি চাষ ছেড়ে কাঁকড়া চাষে ঝুকছে। মৎস্য বিভাগ প্রদর্শনী খামারগুলোতে খাঁচায়, পেনে ও কিশোর নামের তিন ধরনের কাঁকড়া চাষে কারিগরি সহয়তা প্রদান করছে। বাগেরহাটের রামপাল, মংলা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা প্রশিক্ষন নিয়ে লাভজনক এই চাষে এগিয়ে আসছে।
রামপাল উপজেলার হুড়কা গ্রামের কাঁকড়া পবিত্র পাড়ে ও দ্বীপংকর বলেন, কয়েক বছর ধরে চিংড়িতে মড়ক ও ভাইরাস লাগায় আমাদের মতে, অনেক ঘের মালিক চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তবে কাঁকড়া চাষে এই ধরনের ঝুঁকি না থাকায় এই চাষ লাভজনক।
কাঁকড়া চাষি চয়ন বিশ্বাস বলেন, আমরা উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষের প্রশক্ষিণ নিয়ে অল্প জমিতে চাষ করে লাভবান হয়েছি। ৫২ শতক জমিতে কাকড়া চাষ করে তিনগুণ বেশি মুনাফা পেয়েছি। কাঁকড়া চাষে লাভজনক এই প্রদর্শনী খামার দেখে এলাকার অনেক চাষিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে খাচায় কাঁকড়া চাষ মোটাতাজাকরণ বেশি লাভজনক বলে জানান চাষিরা। আশেপাশে দিন দিন বেড়ে চলেছে কাঁকড়া খামার।
বাগেরহাটের রামপালের হুড়কা, রামপাল সদরসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এই চাষে নারী-পুরুষ মিলে কাজ করছে।
রামপাল উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়দেব পাল জানান, মাটি ও পানি কাঁকড়া চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে কাঁকড়া ও কুচিয়া মোটাতাজাকরণ চাষ প্রকল্পের আওতায় প্রদর্শনী খামার স্থাপনের পর এক বছরের ব্যবধানে বর্তমানে চাষীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯শ’। আমরা ঘের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে নানা ধরনের সহযোগিতা দিয়ে চাষিদের কাঁকড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। গত অর্থবছরে রামপাল উপজেলায় সাড়ে ৮শ’ মেট্রিকটন কাঁকড়া উৎপাদন হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে এই উৎপাদন বেড়ে তিনগুণ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।


মন্তব্য