kalerkantho


বেড়ায় যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পাবনা    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৪১



বেড়ায় যুবলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধ

পাবনার বেড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লায় স্থানীয় যুবলীগের দুই পক্ষে সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাদেরকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বগুড়া মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানায়, বেড়া পৌর এলাকার সানিলা মহল্লায় বেড়া উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আ. রশিদ দুলাল পক্ষের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সম্পাদক মো.  রমজান আলী ও পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ময়ছার আলী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গতকাল  শনিবার সন্ধা ৬টায় রমজান ও ময়ছার পক্ষের লোকজন উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আব্দুর রশিদ দুলালের বাড়ি ও তার নিয়ন্ত্রিত সানিলা মহল্লার যুবলীগ অফিসে হামলা করে। দুলালসহ তার লোকজন এতে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। তারা লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল, ধারালো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ময়ছার পক্ষের লোকজন দুলাল নিয়নি্ত্রত সানিলা মহল্লার যুবলীগ কার্যালয় ভাঙচুর করে। প্রায় আধঘণ্টা চলে উভয় পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়।

সংঘর্ষে রমজান ও ময়ছার পক্ষের আলীম (২৮), রুবেল (২৫), শাওন (২৩), হাসমত (২৬), খলিল (২৫), রাসেল (২৮), রায়হান (৩০), নান্টু (৩০), বাচ্চু (২৯) এবং ইয়াকুব (২৮) আহত হন। অপরদিকে, দুলাল পক্ষের আরিফ (২২) ছোট শামীম (১৮), বড় শামীম (২৩) এবং মকবুলসহ (২৫) উভয় পক্ষের প্রায় ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। তাদেরকে বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদেরকে ঢাকা ও বগুড়ায় পাঠানো হয়েছে।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাহমুদ হাসান জানান, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহতদের মধ্যে আলীম, রুবেল, শাওন এবং হাসমতের গুলি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে বের করা সম্ভব না হওয়ায় তাদেরকে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বেড়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আ. রশিদ দুলাল বলেন, "একটি সন্ত্রাসী বাহিনী  অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করে। পরে তারা স্থানীয় যুবলীগ কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এতে আরিফ, ছোট শামীম ও বড় শামীম, মকবুলসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। " এসব অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান তিনি। অপরদিকে রমজান ও ময়ছার জানান, দুলালের লোকজন বিনা কারণে তাদের  লোকজনের ওপর হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এতে তাদের ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন।

বেড়া মডেল থানা ওসি ফিরোজ আহম্মেদ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষে কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলে শুনেছি। এ ঘটনায় আব্দুর রব বাদী হয়ে আজ রবিবার বেড়া মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


মন্তব্য