kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজশাহীতে শিশু সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী    

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:১৫



রাজশাহীতে শিশু সন্তানকে হত্যার পর মায়ের আত্মহত্যাচেষ্টা

রাজশাহী নগরীর নতুন বুধপাড়া এলাকায় শিশু সন্তানকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এক মা। গতকাল শনিবার রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে নিহত ছেলে শাহরিয়ার আলম কাব্য'র (৭) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আহত মা তসলিমা খাতুনকে (৩৫) উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহত কাব্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা রফিকুল ইসলাম নগরীর মেহেরচণ্ডি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ওই এলাকায় তাঁর একটি ওষুধের দোকানও রয়েছে।

নগরীর মতিহার থানার ওসি হুমায়ন কবির বলেন, "ছেলেকে হত্যার পরই মা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাঁর শরীরেও জখমের চিহ্ন রয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। ''

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কাব্য'র বাবা রফিকুল ইসলাম শনিবার রাত ১০টার দিকে ওষুধের দোকান থেকে বাড়িতে ফেরেন। এ সময় তিনি দেখেন ঘরের দরজা ভেতর থেকে আটকানো। তিনি তার স্ত্রী ও সন্তানকে ডাকাডাকি করতে থাকেন। কিন্তু কেউ ভেতর থেকে দরজা খুলছিল না। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখেন ঘরের একটি কোণে ছেলের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। আর তার পাশেই আহত অবস্থায় পড়ে আছেন মা তসলিমা।

এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহত কাব্য'র লাশ উদ্ধার করে। এ ছাড়া আহত অবস্থায় তার মা তসলিমাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। এরপর রাতেই শিশু কাব্য'র লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ।

পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়রা জানান, তসলিমা আগে থেকেই কিছুটা মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি এলাকার কারো সঙ্গে মিশতেন না। এমনকি ঘরের মধ্যে থেকেও তেমন বের হতেন না। তাদের সঙ্গে এলাকার লোকজনের চলা-ফেরাও তেমন ছিল না।


মন্তব্য