kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেড় মাসেও চালু হয়নি বেনাপোল-পেট্রাপোল ‘সুসংহত চেকপোস্ট’

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:২৯



দেড় মাসেও চালু হয়নি বেনাপোল-পেট্রাপোল ‘সুসংহত চেকপোস্ট’

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের দেড় মাস পরও বেনাপোল -পেট্রাপোল ‘সুসংহত চেকপোস্ট’ লিংক রোড দিয়ে পণ্য পুরোপুরিভাবে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে এই পথে আগে থেকেই কিছু পণ্য রফতানি হয়ে আসছে।

বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত থাকলেও পেট্রাপোল বন্দর ও কাস্টম কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত না থাকায় ওই সড়ক দিয়ে পন্যবাহী ট্রাক চলাচল করতে পারছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে শুধু মাত্র নিটল টাটার আমদানিকৃত বাস ট্রাকের চ্যাসিস গুলো এই পথে আমদানি হচ্ছে।

গত ২০ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পশ্চিমবঙ্গ’র মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পেট্রাপোল স্থলবন্দরে ‘সুসংহত চেকপোস্ট’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেনজার টারমিনাল, বেনাপোল বন্দরে অবস্থিত লিংক রোড, বাসটারমিনালসহ আরো কয়েকটি স্থাপনাও উদ্বোধন করেন।

ওপারের ‘সুসংহত চেকপোস্ট’টির প্রধান নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন বিএসএফের দুই শতাধিক সদস্য। পণ্যবাহী এক হাজার ট্রাক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট বাংলাদেশের সঙ্গে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে আরো গতিশীলতা আসনে বলে মনে করেন কাস্টম কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী নেতারা। ট্রাকটারমিনাল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়্যার হাউজ, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট জোন ও স্ক্যানিং মেশিনসহ বিশ্বের আধুনিক বন্দরের সব সুযোগ-সুবিধা থাকছে এখানে।

বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। এই বন্দর থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় ৩  হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করে থাকে। এই বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে ৪০০ থেকে ৪৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আমদানি হয়ে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। আবার ২০০ থেকে ২৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে যায়। রফতানি পণ্য বাইপাস সড়ক দিয়ে ভারতের টারমিনালে গেলেও আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারতীয় খালি ট্রাক যাতায়াত করে বেনাপোল চেকপোস্ট নোম্যান্সল্যান্ড দিয়ে। একই পথে পর্যটকসহ যাত্রীরা দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করে থাকেন। এতে করে বন্দরে পণ্যজট লেগেই থাকে।

এই সমস্যা সমাধানে সরকার বেনাপোল বন্দরে বাইপাস (লিংক রোড) সড়ক নির্মাণ করে। দীর্ঘ ১৫ বছর পর সড়কটি দিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রফতানিবাহী ট্রাক যাতায়াত করছে। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জনবল সংকটের কারণে ও বিশেষ একটি মহলের বাধার কারণে পেট্রাপোল সুসংহত চেকপোস্ট দিয়ে ভারত থেকে আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক ঢুকছে না। যে কারণে চেকপোস্ট থেকে বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত প্রতিদিন থাকছে দীর্ঘ যানজট।

বিভিন্ন যানবাহন, যাত্রীসহ এলাকার সাধারণ মানুষকে আটকে থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। অনেককে পায়ে হেঁটে যেতে দেখা যায় চেকপোস্টে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, ওপারের ট্রাকটারমিনালে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করে বাংলাদেশগামী আমদানি পণ্যবাহী ট্রাক থেকে নির্দিষ্ট চাঁদা আদায় করে থাকে। মূলত তাদের বাধার কারণে লিংক রোড দিয়ে আমদানি এখনো চালু করা যাচ্ছে না। তারা নানা অজুহাতে ধর্মঘটের হুমকি দিয়ে আসছে।

বেনাপোল বন্দর সূত্রে জানা গেছে, পণ্যজট কমাতে ও আমদানি-রফতানি পণ্য ওঠানামা সহজ করার লক্ষ্যে ১৯৯৯ সালে বেনাপোল বন্দরের পাঁচ কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণ করার জন্য উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় ৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এক কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে বেশ আগেই তাদের অংশের আড়াই কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শেষ করে। এরপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাইপাস সড়কের কাজ শেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) নিতাইচন্দ্র সেন বলেন, ‘আমাদের এখানে ৩৮টি শেডসহ ট্রাকটারমিনাল রয়েছে। যাতে আমদানি করা ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পণ্য রাখা যায়। ভারতের নতুন লিংক রোড দিয়ে আমদানি পণ্য এলে তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু ভারতের কাস্টম এখনো প্রস্তুত না থাকায় আমদানি পণ্য আসছে না। তবে রফতানি পণ্য কিছু যাচ্ছে সড়কটি দিয়ে। ’

তিনি বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ হয়েছে। অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বাইপাস সড়ক দিয়ে সব ধরনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করলে বন্দরে যানজট থাকবে না। ’

ওপারের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস সূত্রে জানা গেছে, ভারতের সুসংহত চেকপোস্টে কাস্টমস অফিসগুলো এখনো নতুন ভবনে সরিয়ে নিতে পারেনি তারা। তাই আমদানি-রফতানি শুরু হয়নি। অফিস সরিয়ে নিলেই শুরু হবে আমদানি-রফতানি।

ভারত-বাংলাদেশ স্থলবন্দর আমদানি-রফতানি সাব কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমরা কাস্টম ও প্রশাসনের লোকজনের সাথে ওপারে গিয়েছিলাম। তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন আমাদের দেশে এক হাজার পণ্যবাহী গাড়ি লিংক রোড দিয়ে পাঠাবেন। কিন্তু সক্ষমতা না থাকায় বেনাপোল পোর্ট কর্তৃপক্ষ তা নিতে রাজি হয়নি। লিংক রোডটি চালু হলে আমাদের অনেক হয়রানি কমে যাবে। তাছাড়া দ্রুততম সময়ে আমদানিকৃত গাড়ি বেনাপোল বন্দরে আসতে পারবে। ’

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘কাস্টমস ও বন্দরের সভায় আমরা উভয় দেশের বাইপাস রোডটি চালু করতে তাগিদ দিয়ে আসছি। বেনাপোলের কাস্টম কর্তৃপক্ষ ভারতের কাস্টমকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে জানানো হয়েছে। উভয় দেশের বাইপাস সড়ক দিয়ে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী ট্রাক যাতায়াত করলে যানজট ও পণ্যজট থাকবে না। পণ্যজট না থাকলে এখান দিয়ে আমদানি-রফতানি আরও বাড়বে।


মন্তব্য