kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাভারে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে গুলি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:২৫



সাভারে জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীকে গুলি!

জুয়া খেলার টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জের ধরে সাভারে এক ব্যবসায়ীতে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মুমুর্ষু অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ওই গার্মেন্ট ব্যবসায়ী লিটন মিয়াকে (৩৮) সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শরীরে অস্ত্রপচার শেষে তাকে হাসপাতাল টির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈদের আগেরদিন ১২ সেপ্টেম্বর রাতে পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লায় ঝুট ব্যবসায়ী পারভেজের বাসায়। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিকালে পুলিশ পারভেজের বাসায় অভিযান চালিয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার পারভেজের বহুতল ভবনের একটি ফ্ল্যাটে প্রতিদিনের ন্যায় গত ১২ সেপ্টেম্বর রাতে মদ ও জুয়ার আসর বসে। ঈদের আগের রাতে ওই আসরে সাভার সিটি সেন্টারের সিনহা কালেকশনের মালিক কাপড় ব্যবসায়ী সোহেল ও একই মার্কেটের রেডিমেট গার্মেন্টে ব্যবসায়ী লিটন ওই জুয়ার আসরে আসেন। জুয়া খেলার এক পর্যায়ে নলাম এলাকার কফিল উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী লিটন প্রায় ৩ লাখ টাকা জিতে যান। এতে তার প্রতিপক্ষের (হেরে যাওয়া পার্টি) সোহেলের সাথে তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ঝগড়ার এক পর্যায়ে আশুলিয়ার দূর্গাপুর এলাকার সোহেল উত্তেজিত হয়ে তার সাথে থাকা শর্টগান দিয়ে লিটনকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে। এসময় লিটন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রাত ১১ টার দিকে জুয়ার আসরে উপস্থিত অন্যান্য জুয়াড়িরা লিটনকে গোপনীয়তার সাথে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর ওইদিন রাতেই এনাম মেডিক্যাল কলেজের সার্জন আসাদুজ্জামান রিপন তার শরীরে দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা ধরে অস্ত্রপচার করে পা থেকে গুলি বের করেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা এনাম মেডিক্যাল হাসপাতালে গেলে ওই হাসপাতালের পরিচালক সাইফুল চৌধুরী প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন। এ ঘটনায় পুলিশ বৃহস্পতিবার পারভেজের বাসায় অভিযান চালালেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী লিটনের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য