kalerkantho


নীলফামারীতে লোকসানের মুখে চামড়া ব্যবসায়ীরা

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:২৪



নীলফামারীতে লোকসানের মুখে চামড়া ব্যবসায়ীরা

নীলফামারীতে দাম নেই কোরবানির পশুর চামড়ার। ফলে চামড়া কিনে হতাশ মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসানের মুখে পূঁজি হারানোর কথা বলছেন ওই ব্যবসায়ীরা।

জেলা সদরের টুপামারী চৌধুরী পাড়া গ্রামের ক্ষুদ্র মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন, ‘৩৫ হাজার টাকায় গরুর চামড়া কিনেছি ৫০টি। এখন বড় ব্যবসায়ীরা ওই চামড়ার দাম বলছেন কেনা দামের অর্ধেক টাকা। চামড়া সংরক্ষণ করতে গেলে লবনের খরচ বাড়বে। শেষে ওই লবনের দাম উঠাতে পারবো কিনা সন্দেহ আছে।

জেলা শহরের চামড়া ব্যবসায়ী হাফিজার রহমান বলেন, চামড়ার দাম কম, অপরদিকে চামড়া সংরক্ষণের প্রধান উপকরণ লবনের দাম বেশী। এখন চামড়া কিনে লোকসানের মুখে বিক্রি করতে পারছিনা। সংরক্ষণেও খরচ বাড়ছে।

অপরদিকে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রেতা শহরের সবুজ পাড়ার মীর মোস্তফা আবু হোসেন বলেন, ৪২ হাজার টাকার কোরবানির গরুর চামড়া এক হাজার টাকায় এবং নয় হাজার টাকার খাসির চামড়া ২০ টাকায় বিক্রি করেছি। এর আগে কোরবানির চামড়ার এত মন্দা বাজার দেখিনি। ক্রেতা না পেয়ে পানির দামে অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের দিন জেলা শহরের বড় বাজারে প্রতিটি গরুর চামড়া ৪০০ থেকে ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়। এতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেশী দামে চামড়া কিনে লোকসানের মুখে পড়েছেন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা।

নীলফামারী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি সফিকুল আলম বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীসহ প্রায় চার বার হাত বদল হয়। গ্রাম ঘুরে পশুর চামড়া কিনেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা, দ্বিতীয় ধাপে চামড়া যায় পাইকারের হাতে। তৃতীয় ধাপে আড়ৎদার কিনে কিছুদিন গুদামজাত করেন। এর পর আড়ৎদারদের কাছ থেকে ট্যানারী মালিকরা সরাসরি কিনে নেন। এবারে চাহিদা না থাকায় প্রথম ধাপের ব্যবসায়ীরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। দ্রুত এর অবসান না হলে প্রথম ধাপের ওই ক্ষুদ্র মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পূঁজি হারাবেন।


মন্তব্য