kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বজনদের বিক্ষোভ

ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি    

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৫৩



ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুরে অবস্থিত খিদমা হাসপাতালে ভুল চিকিসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রোগীর স্বজনরা।

তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শাস্তি দাবি জানিয়েছেন।

গতকাল বুধবার রাতে উপজেলার গৌরীপুর খিদমা হাসপাতাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।   নিহতের নাম শাহিনা আক্তার (৩২)। তিনি দক্ষিণ সতানন্দী গ্রামের প্রবাসী সেলিম মিয়ার স্ত্রী।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, বুধবার রাতে উপজেলার দক্ষিণ সতানন্দী গ্রামের প্রবাসী সেলিম মিয়ার স্ত্রী শাহিনা আক্তারকে সিজারিয়ানের মাধ্যমে বাচ্চা ডেলিভারির জন্য গৌরীপুর বাজারের খিদমা হাসাপতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১২ হাজার টাকায় সিজারিয়ানের বাচ্চা ডেলিভারির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। ঈদের ছুটির কারণে সেখানে চিকিৎসক না থাকায় একজন নার্স ও চিকিৎসক হোসনেয়ারা সিজারিয়ানের মাধ্যমে বাচ্চা ডেলিভারি করান। সিজারিয়ানের সময় নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং শাহিনা আক্তারের রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় দুইজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে পথেই মারা যান গৃহবধূ শাহিনা আক্তার। স্বজনরা তাদের মা ও নবজাতকের মৃত্যুর খবর  পেয়ে খিদমা হাসপাতালে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্বজনদের চাপের মুখে বাধ্য পুলিশ লাশ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহতের মা ফয়জুন্নেসা মেয়ে ও নবজাতককে হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি  বলেন, "আমরা হাসাপতালের মালিককে বলেছিলাম ভালো ডাক্তার দিয়ে আমার মাইয়ার ডেলিভারি করাইতে। একজন নার্স আর হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে সিজার করাইরা আমার মেয়ে ও নাতনিকে মারছে। " হাসপাতালের মালিক দেওয়ান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমি ঢাকায় চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে আসলে বলতে পারবো কী কারণে এ দুর্ঘটনা হয়েছে। "

গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই তপন কুমার বাগচী বলেন, "রাতে গোলমালের খবর পেয়ে ঘটনারস্থলে যাই এবং নিহতদের স্বজনদের শান্ত করার চেষ্টা  করি। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা প্রেরণ করেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "

 


মন্তব্য