kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুক্তিপণ দাবি

সুন্দরবন থেকে ২০ জেলে অপহরণ

বাগেরহাট প্রতিনিধি    

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১৯



সুন্দরবন থেকে ২০ জেলে অপহরণ

সুন্দরবন থেকে মুক্তিপণের দাবিতে ২০ জেলেকে অপহরণ করেছে দস্যুরা। গতকাল  মঙ্গলবার গভীর রাতে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা উপজেলাধীন ধানসিদ্ধির চর এলাকায় মাছ ধরার সময় জেলেবহরে দস্যুরা হামলা চালায়।

এ সময়  ২০টি ট্রলার থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকার মাছ ও জাল লুট করে তারা।

এতে বাধা দিতে গেলে পাঁচ জেলেকে মারধর করে। যাওয়ার সময় দস্যুরা মুক্তিপণের দাবিতে ২০ জেলেকে অপহরণ করে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড মংলা পশ্চিম জোনের সদস্যরা অভিযান শুরু করেছেন বলে জানা গেছে।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক দস্যুরা এক দিকে তাদের অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করছে আর অন্যদিকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণের ঘটনায় জেলেদেরকে ভাবিয়ে তুলেছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জেলে জানান, সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় ২০টি ট্রলার নিয়ে দুই শতাধিক জেলে মাছ ধরছিলেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রলারযোগে আসা ১০-১২ জনের একদল দস্যু জেলেদের ট্রলারে হামলা চালায়। তারা জেলেদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওইসব ট্রলার থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মাছ ও জাল লুট করে। এতে বাধা দিতে গেলে পাঁচ জেলেকে পিটিয়ে আহত করা হয়। যাওয়ার সময় দস্যুরা জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে মুক্তিপণের দাবিতে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তারা বনদস্যু 'জাহাঙ্গীর বাহিনী'র সদস্য বলে জানা গেছে।

কোস্টগার্ড মংলা পশ্চিম জোনের অপারেশন বিভাগের স্টাফ অফিসার লে. ফরিদুজ্জামান খান জানান, ২০ জেলে অপহরণের খবর পাওয়ার পর কোস্টগার্ড সদস্যরা আজ  বুধবার সকাল থেকে সুন্দরবনে অভিযান শুরু করেছে। এ রিপোর্ট লেখার সময়  পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের উদ্ধার বা কোনো দস্যুকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, গত ৩১ মে থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাস আট দিনে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পাঁচটি জলদস্যু-বনদস্যু বাহিনী প্রধানসহ ৩৫ দস্যু আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছে। এ সময় দস্যুরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং গোলাবারুদ জমা দেয়। অন্য দস্যুরাও আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে বলে জানা গেছে।

 


মন্তব্য