kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম মানুষ শুন্য আতঙ্কিতদের ঈদ আনন্দ মাটি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি    

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৬



গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রাম মানুষ শুন্য আতঙ্কিতদের ঈদ আনন্দ মাটি

পুলিশের গ্রেপ্তার আতঙ্কে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ কলারোয়ার চান্দুড়িয়া গ্রাম মানুষ শুন্য হয়ে পড়েছে। গত নয় দিন ধরে চলছে এ অবস্থা।

এলাকাবাসির দাবি, থানা পুলিশের দায়ের করা মামলার কারণে ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে গ্রামের নারী শিশুসহ সব পেশার মানুষ।

কলারোয়া উপজেলা সদর থেকে ২১ কিলোমিটার দূরে ভারত সীমান্ত লাগোয়া চান্দুড়িয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, পুরো গ্রামটি প্রায় মানুষ শুন্য। বয়োবৃদ্ধদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সাদা পোশাকে দুই পুলিশ সদস্য সহিংসতা মামলার (এজাহারে নাম নেই) আসামি এক যুবদল নেতাকে আটক করতে যায়। এ সময় অপহরণকারী ভেবে তিন নারী পুলিশের হাতে কামড়িয়ে ধরে আসামি ছিনিয়ে নেয়। পরে ওই ঘটনায় পুলিশ নারী-শিশুসহ গ্রামের ১৭ জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪০ জনকে আসামি করে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এ ঘটনার পর থেকে গ্রেপ্তার আতংকে মানুষ গ্রাম ছেড়ে অন্যত্রে আত্মগোপন করে আছে।

মামলার আসামি রোজিনা বেগম জানান, তার স্বামী শফিক উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি মেম্বার ও বর্তমান ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি। গত ৬ সেপ্টম্বর সকালে দুই যুবক সাদা পোশাকে চান্দুড়িয়া বাজার থেকে তার স্বামী শফিককে আটক করে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে মারপিট করতে থাকে। এ সময় স্বামীর আত্মচিৎকারে তিনি ও প্রতিবেশী তিন নারী ঘটনাস্থলে এসে স্বামীর ওপর হামলা দেখে তাদের হাতে কামড়িয়ে ধরে। এ সুযোগে শফিক পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সীমান্তের টহলরত বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসার পর দুই যুবক চলে যায়। পরে থানা থেকে পুলিশ এসে গ্রামবাসীদের ওপর হামলা চালিয়ে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। যে মামলায় তিনিসহ গ্রামবাসীদের আসামি করা হয়েছে।

এদিকে মামলার বাদী কলারোয়া থানার এএসআই রতন কুমার হাজরা জানান, গত ৬ তারিখে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি দুই পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। এ সময় থানার ২৩ নম্বর মামলার সন্দেহভাজন আসামি শফিক ওরফে শফি মেম্বার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে জানতে পেরে চান্দুড়িয়া বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। পালানোর জন্য শফিকসহ গ্রামের ৩০/৪০ জন নারী পুরুষ তাদের ওপর ইট পাটকেল নিয়ে হামলা চালায়। সুযোগ পেয়ে শফিক পুলিশ কনষ্টেবল সবুজ মোল্যার ডান হাতে কামড় দিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, সংঘবদ্ধ জনতার পুলিশের ওপর হামলা, মোবাইল ফোনসেট ছিনতাই ও সরকারি কাজে বাধা দানসহ এ সংক্রান্ত অভিযোগে পেনালকোডের বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে মামলার প্রধান স্বাক্ষী উপজেলার ৭ নম্বর চন্দনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম মনি জানান, ঘটনার সময় তিনি উপজেলার সোনাবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে চোরাচালান বিরোধী একটি মতবিনিময় সভায় ছিলেন। বিষয়টি তিনি দুপুরে লোকমুখে জানতে পারেন। সহিংসতা মামলার আসামি বিএনপি নেতা শফিককে আটক করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় নতুন করে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিজিবির সেক্টর কমান্ডারসহ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ওই মতবিনিময় সভায় বর্তমান ইউপি মেম্বর লাভুলু মিয়াও উপস্থিত ছিলেন। মামলায় তাকেসহ তার স্ত্রীকেও আসামি করা হয়েছে। স্কুলছাত্র সৌরভ, হার্টের রোগী মেঘনা বেগমসহ নিরাপরাধ ১৭ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীকে মামলায় জড়ানো হয়েছে, যা দু:খজনক।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা এসআই পিন্টু লাল দাস জানান, গ্রামবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা সঠিক নয়। এ পর্যন্ত পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি করা হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ-বিএনপি বড় কথা নয়। আইন ভঙ্গকারি যে কেউ অপরাধী হিসাবে বিবেচ্য হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে শিশু অপরাধ দমন আইনে তার বিচার হবে।

এ ব্যাপারে চান্দুড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কলেজ অধ্যক্ষ গাজী রবিউল ইসলাম মামলাটি মিথ্যা দাবি করে বলেন, গ্রামের নিরিহ নারী পুরুষসহ আওয়ামী লীগ ও যুব লীগ নেতা-কর্মীদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে তিনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।


মন্তব্য