kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জামালপুরে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিকট অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

জামালপুর প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৮



জামালপুরে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিকট অতিরিক্ত ভাড়া আদায়

জামালপুর জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কপথে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা গত শুক্রবার সকাল থেকে ঈদে ঘর মুখো যাত্রীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেশি ভাড়া আদায় করছেন। এতে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

সরেজমিনে জামালপুর সিএনজি স্ট্যান্ডে গিয়ে জানা গেছে, জামালপুর থেকে ইসলামপুর সড়ক পথে ভাড়া ৫০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে ১০০টাকা, জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জে ৮০ টাকা ভাড়ার স্থলে ১৬০ টাকা, জামালপুর-মাদারগঞ্জে ৮০ টাকার স্থলে ১৬০ টাকা, জামালপুর-মেলান্দহে ৩০ টাকার ভাড়ার স্থলে ৬০ টাকা, এবং জামালপুর-বকশীগঞ্জ সড়কে ৮০ টাকার স্থলে ১৬০  টাকা করে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কোনো উপায় না থাকায় বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়েই ঘরে ফিরতে হচ্ছে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের।

বকশীগঞ্জ পৌর শহরের মোহাম্মদ মাসুদুল হাসান বলেন, ‘পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামের বাড়ি ঈদের আনন্দ উদযাপন করতে যাচ্ছি। আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেন থেকে নেমে সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখি প্রত্যেক চালকরা ৮০ টাকা ভাড়ার স্থলে ২০০ টাকা করে ভাড়া চাচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার কারণ যানতে চাইলে চালকরা বলছেন ঈদ উপলক্ষ্যে ভাড়া বেশি। ফলে বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রত্যেক বছর একই অবস্থা হলেও ভাড়া নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চুকাইবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে জামালপুর আসছি। সিএনজিতে এখন বাড়ি পৌঁছাতে হবে। কিন্তু অটোরিকশা স্টেশনে এসে হতবাগ হয়ে গেলাম। একজন ড্রাইভারকে ভাড়ার কথা জিজ্ঞেস করতেই, সে বলে ২০০ টাকা হলে যেতে পারবেন। তানা হলে অন্য কিছু দিয়ে যান। তাই ঘন্টা খানেক ধরে এখানে দাঁড়িয়ে আছি। বুঝতে পারছি না কি করবো। মনে হচ্ছে ২০০ টাকা দিয়েই যেতে হবে। ৮০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা নিতে পারে। তাই বলে ১২০ টাকাই বেশি দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ বেকায়দার মধ্যে পড়েছেন।

জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের সিএনজিচালিত অটোরিকশার একজন ড্রাইভার হাবিবুর রহমান বলেন, গাড়িতে গ্যাস তুলতে সময় বেশি লাগছে। সাত-আট ঘন্টা সময় লাগে গাড়িতে গ্যাস তুলতে। আজ শনিবার ভোর পাঁচটার সময় গ্যাস তুলতে স্টেশনে গিয়েছিলাম। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর গাড়িতে গ্যাস তুলতে পেরেছি। এখন একটি ট্রিপ নিয়ে গেলে সারাদিনের কাম শেষ। তাই ভাড়া একটু বেশিই নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রী বেশি গাড়ি কম থাকায় এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

জামালপুর জেলা সিএনজি অটোরিকশা অটোটেম্পো শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীর চাপ বেশি। অন্যদিকে জামালপুর শহরে সিএনজি পাম্প মাত্র একটি। ফলে একটি অটোরিকশার গ্যাস নিতে ওই পাম্পে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা সময় লেগে যায়। সারাদিনে একটি গাড়ি একবার আপ-ডাউনের বেশি ভাড়া মারতে পারে না। তাই ভাড়া একটু বেশি নিতে পারে। তবে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে কেউ ভাড়তি ভাড়া নিয়ে থাকলে খোঁজ-খবর নিয়ে তা বন্ধ করা হবে বলে তিনি জানান।


মন্তব্য