kalerkantho


ধামরাইয়ে দিদার অপহরণ রহস্য

ধামরাই(ঢাকা) প্রতিনিধি   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৫৮



ধামরাইয়ে দিদার অপহরণ রহস্য

গত ৮ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে ধামরাইয়ে জয়পুরার ক্যাপিটা অটো ব্রিকস থেকে অপহরন করা হয় ওই প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) দিদারুল আলম দিদারকে। তাকে অপহরনকারীরা শুক্রবার রাত নয়টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের খাতরা এলাকার মহাশক্তি প্রেরণ কেন্দ্রের কাছে ফেলে রেখে যায়। তবে পুলিশ উদ্ধারের স্থান নিয়ে একেক সময় একেক রকম তথ্য দিচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে একবার বলা হয়েছে দিদারকে ঢাকার বেড়িবাধ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে তাকে ধামরাইয়ের খাতরা এলাকায় অপহরণকারীরা ফেলে গেছে। দিদার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছে গতকাল শনিবার। এ ঘটনায় ১৮ ঘন্টার ব্যবধানে থানায় সাধারন ডায়েরী ও একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

দিদারকে তাকে যখন অপহরন করা হয় তখন ওই কারখানার সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত চিত্রে দেখা যায় প্রথমে দুজন ব্যক্তি কারখানার ভিতরে ঢোকে পায়চারী করতে থাকে। পরবর্তীতে  ওই দুই জনের সাথে দিদারুল আলম দিদার কারখানার বাইরে চলে আসে। বাইরে আগে থেকে অপেক্ষমান ছিল একটি হায়েজ মাইক্রোবাস। দিদার ওই মাইক্রোবাসের দরজার কাছে গেলে পিছন দিক থেকে তিনজন ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোর ভিতরে উঠিয়ে নিয়ে যায়। আর দুজন ব্যক্তি একটি মোটর সাইকেলে চলে আসে।

উদ্ধার হওয়া দিদারের কাছ থেকে গতকাল শনিবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে থানায় কথা বলে জানা গেছে,অপহরনকারীদের মধ্যে দুজন তাকে প্রথমে বলে কারখানা থেকে ইট কিনতে আসছে। এক বৃদ্ধ মাইক্রোতে বসে আছে সেই ইট কিনবে। সরল বিশ্বাসে ওই দুইজনের সাথে মাইক্রোর দরজার কাছে গেলে ভিতর থেকে কয়েকজন তার হাত ধরে টান দেয় এবং পিছন থেকে তিনজন ধাক্কা দিয়ে মাইক্রোতে উঠিয়ে চোখমুখ বেধে ফেলে। উঠানোর সময় তিনি দেখেছেন মাইক্রোর ভিতরে কয়েকজন অস্ত্রধারী লোক বসা ছিল। সারারাত তাকে চোখ বেঁধে রেখেছিল। তাকে শারীরিক নির্যাতন করার পর শুক্রবার রাত নয়টার দিকে খাতরার মহাশক্তি প্রেরন কেন্দ্রের কাছে ফেলে রেখে যায় বলে জানান তিনি।

তিনি আরো জানান, অপহরণকারীরা বারবার জানতে চেয়েছে তার ছোট শ্যালক  মেহেদী হাসান ও শ্যালকের স্ত্রী তানহা কোথায় আছে। তাকে অপহরণকারীরা বলেছেন,এ বিষয়ে কারো কাছে কিছু বললে ‘তোকে ক্রস ফায়ারে জীবন শেষ করে দেব। তারা আরো বলেছে তোকে ক্রস ফায়ারে না দিয়ে গাড়ী চাপায় মেরে ফেলা হলে কোন দোষ হবে না’।

দিদারের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা লিমা জানায়,মিডিয়ায় অপহরণের খবর প্রচার হওয়ায় তার স্বামীকে জীবিত পাওয়া গেছে। এ কারনে তিনি গতকাল রাতে থানায় সংবাদ কর্মীদের ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা সাংবাদিকদের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, নারায়নগঞ্জের আলোচিত চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় যে পেশার লোকজন জড়িত তাদের সেই পেশার সদস্যরা এ কাজ করেছেন। তবে সিসি ক্যামেরায় ধারনকৃত ফুটেজের সূত্র মধরে তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে অপহরণকারীরা কোন পেশার লোক। সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তাদের চোখেমুখে ছিল  আতঙ্কের ছাপ।

অপহরণের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে থানায় সাধারন ডায়েরী করেন দিদারের বড়ভাই আরিফুল ইসলাম। আবার শুক্রবার রাতে দিদারের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা লিমা বাদী হয়ে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, দিদারের ছোট শ্যালক মেহেদী হাসান ঢাকার মিরপুরের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে তানহাকে প্রেম করে বিয়ে করেন। এ বিয়ে মেনে নিতে পারেননি তানহার পরিবার। এ ঘটনায় মামলা করে তানহার বাবা। মামলায় দিদারকে আসামী করা হয়। তানহাকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় তার পরিবার। কিছু দিন পর তানহা আবার চলে আসে  মেহেদী হাসানের কাছে। মেহেদী হাসান ও তানহা বর্তমানে কোথায় আছে তা কেউ জানেনা। দিদাদের ধারনা তার শ্যালকের শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন টাকার বিনিময়ে কোন বিশেষ বাহিনীর সদস্যদের দিয়ে অপহরণ করিয়েছিল। দিদার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। দিদার সাভারের ঘুঘুদিয়া গ্রামের মুত ফয়জুল হকের ছেলে। তার শ্বশুড়বাড়ী সাভারের বিনোদবাইদ এলাকায়।

দিদারের বড় শ্যালক মাসুদুল হাসান জানান,তার ছোট ভাই মেহেদী হাসানের শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন আমাদের ক্ষতি করার কয়েকবার চেষ্টা করেছে এমনকি তারা হুমকিও দিয়েছে। তারাই কোন বিশেষ বাহিনীকে দিয়ে দিদারকে অপহরণ করিয়েছিল।

দিদারুল আলমের বড় ভাই আরিফুল আলম জানান, কারখানার কারো সাথে তার ভাইয়ের শত্র“তা বা দন্দ্ব নেই। তবে তার ধারনা দিদারের ছোট শ্যালক মেহেদী হাসানের শ্বশুড়বাড়ীর লোকজন অপহরণ করানোর সাথে জড়িত।

উদ্ধারের স্থান নিয়েও লোকচুরি করেছে পুলিশ। একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে সংবাদকর্মীদের।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই শাহিনুল ইসলামের কাছে দিদারের উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ সাহার কাছে জানতে বলেন।

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা গতকাল শনিবার সকালে বলেছেন ‘পুলিশের তৎপরতায় অপহরণকারীরা দিদারকে ঢাকার বেরিবাধ এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় এবং তাকে সেখান থেকেই উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে শনিবার রাত সোয়া এগারটায় দীপক চন্দ্র সাহাই বলেছেন ‘দিদারকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের খাতরা  এলাকায় মহাশক্তি প্রেরন কেন্দ্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে’।


মন্তব্য