kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের স্বপ্নের শিক্ষাকেন্দ্র

স্কুলের গেট দিয়ে ঢোকে গরু-ছাগল; ফাঁক-ফোকর দিয়ে শিক্ষার্থী!

সোহেল হাফিজ, বরগুনা   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২৩



স্কুলের গেট দিয়ে ঢোকে গরু-ছাগল; ফাঁক-ফোকর দিয়ে শিক্ষার্থী!

বিদ্যলয়ের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকছে গরু-ছাগল; বিপত্তিতে শিক্ষার্থীরা। ছবি : কালের কন্ঠ

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করে অলি-গলি আর ফাঁক-ফোকর দিয়ে। প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশের সুযোগ নেই তাদের।

প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে গরু-ছাগল আর ক্রেতা-বিক্রেতা। যে দু-চারজন শিক্ষার্থী এই গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে তাদের সবাইকেই পড়তে হয় গরু-ছাগলের দালালসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ইভটিজিংয়ের বিড়ম্বনায়। একবছর দুই বছর নয়, গত ২০ বছর ধরেই চলছে গরু-ছাগলের হাটের নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিড়ম্বনার এ চিত্র। থানার ওসি, এইউএনও এমনকী জেলা প্রশাসকের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের একটি মাত্র স্কুলকে ঘিরে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এখানে ধীরে ধীরে গড়ে তোলেন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রায় চার একর জমি নিয়ে এ শিক্ষাকেন্দ্রে গড়ে ওঠে কলেজ, শহীদ স্মৃতিসৌধ ও কর্মজীবী নারী ও অসহায় শিশু-কিশোরী ছাত্রীনিবাসও।

সম্মিলিত এ শিক্ষাকেন্দ্রের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজ। কলেজটিতে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। একই প্রাঙ্গণে অপর একটি স্কুলের নাম হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে ৮২৪ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। কর্মজীবী নারী ও অসহায় শিশু-কিশোরী ছাত্রীনিবাসেও রয়েছে অর্ধশত শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারী।

রবিবার দুপুরে বামানার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের এ শিক্ষাকেন্দ্রে সরেজমিন দেখা গেছে, সম্মিলিত এ শিক্ষাকেন্দ্রের প্রধান ফটক দিয়ে দলে দলে গরু-ছাগল নিয়ে প্রবেশ করছে বিক্রেতারা। প্রবেশ করছে বিভিন্ন বয়সের শত শত ক্রেতাও। একই সাথে গরু-ছাগল আর মানুষের ভিড় ঠেলে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরাও। একই গেটে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের দিকে শিষ দিয়ে ইভটিজিংয়ের চেষ্টা করতে থাকা উঠতি বয়সের দুই যুবককেও দেখা যায় সেখানে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়িতা রাণী মিত্র জানান, একই গেট দিয়ে গরু-ছাগল আর শতশত লোকের ভিড় ঠেলে তাদের স্কুলে ঢুকতে কষ্ট হয়। প্রায়ই নানারকম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।

হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল হক খান জানান, "একই প্রাঙ্গনে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার মূল কেন্দ্র চলে আসছে। শিক্ষাঙ্গন সংকটের এ অঞ্চলে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের প্রচেষ্টায় এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নানাবিধ উন্নয়ন ঘটেছে। সম্মিলিত এ শিক্ষাঙ্গনকে ঘিরে সেলিনা হোসেনের অনেক স্বপ্ন রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল নানাভাবে এই শিক্ষাকেন্দ্রটির ক্ষতিসাধনে উঠে পড়ে লেগেছে। বারবার স্থানীয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। "

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বামনা উপজেলা চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম লিটু বলেন, স্কুলের কারনে গরুর হাট, বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা ভাবলেই হবে না। হাট বাজারের উন্নয়নের কথাও ভাবতে হবে।

বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাবেক ডিজিএম আনোয়ার হোসেন খানের সহধর্মিণী প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তুলেছেন এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত মাঠ থাকা সত্ত্বেও খেলার জন্য মাঠ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধ আর সাংস্কৃতিক চেতনা জাগাতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। এই স্তম্ভের ওপরও গরুর হাট বসছে যা মেনে নেওয়া যায় না। শতশত শিক্ষার্থীর বিড়ম্বনার কথা ভেবে তা অন্যত্র স্থানান্তরের জন্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা চান তিনি।


মন্তব্য