kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গোপালগঞ্জে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে নানা অনিয়ম

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:০৮



গোপালগঞ্জে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে নানা অনিয়ম

সরকারের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের শুরুতেই গোপালগঞ্জের বেশ কয়েকটি স্থানে পরিমাপে কম দেওয়া এবং একই পরিবারে একাধিক কার্ড বিতরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। আজ শনিবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার হরিদাসপুর ইউনিয়নের খাগাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

খাগাইল গ্রামের লিটু মোল্লা, কাবুল খান, সাবেক ইউপি মেম্বার আমিনুর রহমান মোল্যা অভিযোগ করে বলেন,  ডিলার ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে ২৮/২৯ কেজি চাল বিতরণ করেছেন। অন্যদিকে একই পরিবারের মধ্যে একাধিক রেশন কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আর এ কারণে অসংখ্য গরীব মানুষ সরকারের এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  

তারা আরো বলেন, সামনে কোরবানির ঈদ। এ সময় কম দামে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে কার্ড প্রতি ৩০ কেজি চাল পেয়ে হতদরিদ্র লোকজন খুবই খুশি। অথচ এক শ্রেণির অতি লোভি ডিলার বেশী লাভের আশায় ৩০ কেজির স্থলে ২৮/২৯ কেজি করে চাল বিতরণ করছেন।

চাল নিতে আসা বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু চাল হয়েছে ২৮ থেকে ২৯ কেজি। আমরা বিষয়টি জানতে চাইলে তারা বলে বস্তায় চাল কম এসেছে তাই কম হবে।

এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকার দেশের হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি দরে খাদ্য শষ্য বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এরই অংশ হিসাবে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ২১ ইউনিয়নে ৪২ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার হত দরিদ্রদের মাঝে খাদ্য শষ্য(চাল) বিতরণ শুরু হয়েছে।

যার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই ডিলার বদর মোল্যা চাল কম দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, গোডাউন থেকে চাল আনার সময় কিছু ঘাটতি হয়। সে ঘাটতি মেটাতেই তিনি কিছু কার্ডধারীকে মাপে কম দিয়েছেন।

এদিকে গোডাউন থেকে চাল কম দেবার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে সদর উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জয় কৃষ্ণ গুপ্ত জানান, গোডাউন থেকে চাল কম দেবার প্রশ্নই ওঠে না। ওই অজুহাত দিয়ে কার্ডধারীদেরকে চাল কম দেবার কোন অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।

হরিদাসপুর ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীনেশ জয়ধর বলেন, চাল কম দেওয়ার ব্যাপারটা ঠিক পেয়ে পরবর্তীতে তা সুধরানোর চেষ্টা করেছি।

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন বলেন, হত দরিদ্রদের জন্য সরকার ঘোষিত ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেওয়া কর্মসূচি যাতে কিছু স্বার্থান্বেষীর জন্য প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়ে ডিলারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 


মন্তব্য