kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরাজগঞ্জে আটক জেএমবি নারী সদস্যদের অনেক সহযোগী আত্মগোপনে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৪১



সিরাজগঞ্জে আটক জেএমবি নারী সদস্যদের অনেক সহযোগী আত্মগোপনে

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বড়ইতলা গ্রাম থেকে জেএমবির চারজন আত্মঘাতী মহিলা সদস্যকে আটকের পর থেকে তাদের অনেক সহযোগীরা আত্মগোপনে রয়েছে। এসব সহযোগীরা যমুনার চরাঞ্চল থেকে ধর্মীয় তামিল দেবার কথা বলে সাধারণ মানুষদের ডেকে আনতো।

এজন্য প্রতি সপ্তাহে ও মাসিক দিন ধার্য করে তালিমের নামে ধর্মের অপব্যখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষদের মগজ ধোলাই করতো বলে ধারণা করছে পুলিশ ও এলাকাবাসী।  

ওই চার জেএমবি নারী সদস্যকে আটকের পর থেকে কাজিপুরের বড়ইতলা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন, মেয়ে আছিয়া খাতুন ও আব্দুল মালেকের স্ত্রী জাবেদা খাতুন, মেয়ে রাবেয়া খাতুনসহ এই এলাকার প্রায় সাতজন আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, আত্মগোপনকারীরা জেএমবির সক্রিয় সদস্য এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধর্মীয় তালিমের নামে তারা জঙ্গি মদত জোগাত এবং জেএমবি সদস্য সংগ্রহ করত। প্রায় প্রতি সপ্তাহে ও মাসে নিয়োমিত কথিত এই তামিল অনুষ্ঠানে  দূর-দূরান্তের বেশ কিছু মহিলা ও এলাকার কয়েকজন ছাড়া বাকি গ্রামবাসীদের এ তালিমে প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। এইসব জঙ্গিরা পর্দাশীলতার অজুহাতে প্রতিবেশিদের সাথে সম্পর্ক না রেখে তাদের এড়িয়ে চলতো।

কাজিপুর গান্ধাইল ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার ইসমাইল হোসেন ও এলাকাবাসী জানান, ডিবি পুলিশের হাতে আটক রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া খাতুনের বাসাতে সপ্তাহের বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুই দিন তালিম শেষে তারা খিচুরি রান্না করে খেত। বহিরাগত মহিলারা আসতো এ তালিমে আর সাথে এলাকার কয়েক জন মহিলাকে দেখা যেত। তবে এলাকার বাকি মহিলা ও পুরুষদের সেখানে যাওয়া নিষেধ ছিল। তবে ডিবি পুলিশের হাতে আটকের পর বুঝতে পারছি তারা ধর্মের লেবাসে জঙ্গিবাদ করত। নিজ বাড়ির পাশে এমন ভয়ঙ্কর জঙ্গির বসবাস ছিল জানতে পেরে গা শিউড়ে উঠে বলে জানান আটককৃতদের প্রতিবেশিরা।

এদিকে চার নারী সদস্য আটকের পর থেকেই এই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী জরিনা খাতুন, মেয়ে আসিয়া খাতুন ও মরিয়ম খাতুন এবং আব্দুল মালেকের স্ত্রী জাজেদা খাতুন ও মেয়ে রাবেয়া খাতুন বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে। নিখোঁজ রাবেয়ার সাবেক স্বামী বেলাল হোসেন জানান, তার চলাফেরা ঠিক ছিল না। সব সময় পর্দাশীল থাকতো বাড়ির পাশে প্রতিবেশি কারো সাথে মিশতো না। আর মাসের মধ্যে ৪-৫ দিন তালিমের কথা বলে বাড়ির বাইরে থাকত। আটক রাজিয়ার সাথে মেলামেশা ছিল আর এক সাথে তালিম করত। আমি এসব বিষয়ে বারণ করলে সে আমাকেই তার মত হয়ে চলতে বলতো এবং বেহশত পাবার রাস্তায় আমাকে নিয়ে যাবার কথা বলতো। কোন ভাবেই আমার ও পরিবারে কথা না শুনায় এলাকার মাতব্বরদের নিয়ে শালিস বসানোর পর আমি কোর্টের মাধ্যমে তাকে ডির্ভোস দেই।  

অপরদিকে আটক রাজিয়ার বৃদ্ধ শশুর লোকমান আলী জানান, দীর্ঘদিন বাড়িতে নানা ধরনের লোকজন আসতো, তাদের চলাফেরা আমার ভালো লাগতো না। আমি তাদের এসব কাজ থেকে সরে আসতে অনেক মানা করেছি, কিন্তু শোনেনি। আর রাজিয়ার শাশুড়ি জানান, তার ছেলের বউয়ের সাথে তাদের মতামত মিলতো না। বাড়ির একটি গেট দিয়ে মাঝে মাঝে বোরকা পরা ৯-১০ জন মহিলা আসতো। তারপর ঘর বন্ধ করে কি করতো তা জানি না।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, তাদের আটকের পর তারা স্বীকার করেছে যে তারা জেএমবির সদস্য। এদের সাথে আর কারা জরিত আছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলায় ৮ নারী সহ ২১ জনকে জেএমবি সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আর আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর সিরাজগঞ্জরের কাজিপুর উপজেলার বড়ইতলা গ্রাম থেকে জেএমবির আত্মঘাতী চার নারী সদস্যকে আটক করে ডিবি পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে জিহাদী বই ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়। আটককৃতরা হলো- কাজিপুর উপজেলার বড়ইতলা গ্রামের আবু সাইদের স্ত্রী ফুলেরা খাতুন মেয়ে সাকিনা খাতুন , সালমা খাতুন ও প্রতিবেশী রফিকুল ইসলামের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।


মন্তব্য